অহনা সামনের বছর ঢাকার নামকরা একটা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। ওর খুব শখ পরীক্ষার পর মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য কোচিং করবে, কিন্তু বাবার আগ্রহ মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করবে। এদিকে অহনার মা মনে করেন, মেয়েকে এত পড়াশোনা করিয়ে কী হবে, বিয়ে দিয়ে দিলেই হয়। কিন্তু অহনা কিছুতেই যে তা মেনে নিতে পারছে না! এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুদের সাথেও শেয়ার করতে পারছে না সবকিছু। নিজের এতদিনের ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার, বাবাকে কোনোরকমেই নিজের আগ্রহের কথাটা বুঝাতে পারছে না। এই সমস্যাটা প্রায়ই হয় সব কমবয়েসী ছেলেমেয়েদের। শুধু যেন মনে হয়, বাবা-মায়েরা কখনোই তাদের কথাগুলো বুঝতে চান না। তারা এটা বুঝেন না যে, সন্তান সেই জায়গাটিতেই ভালো করবে যেদিকে তার আগ্রহ আছে। ঠিক তখনই অবনতি ঘটে সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্কের। এই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি।
সমাধান কোন পথে?
আগেই বলে রাখি এই মুশকিলকে ‘কিল’ করা খুব সহজ নয়। বাবা বয়সে বড়, তার অভিজ্ঞতার ঝুলিও বেশি। সবচেয়ে বড় বিষয় তুমি আপাতত বাবার হোটেলেই খাও, সেই হোটেলেই থাক। মাকে বুঝিয়ে তোমার পক্ষে আনলে হয়তো, কিন্তু বাবা যদি তার জিদ চেপে বসে থাকেন তাহলে বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না। সুতরাং নিজের সমস্যা মেটাতে নিজেকেই মাঠে নামতে হবে। মাকে হাত করতে না পারলে তুমি কিন্তু একলা এই খেলাতে। যাই হোক, ‘বাবা আমার ব্যাপারে নাক গলানোর কে’—এই টাইপ অভিমান করে থাকলে কিন্তু কোনো লাভ হবে না। ঘরে অহেতুক অশান্তি বাড়বে। প্রথমেই বুঝতে চেষ্টা কর, বাবা-মা তোমার উপর কোনো বিষয় নিয়ে অখুশি কি না। তারপর সেই ব্যাপারটা নিয়ে নিজে চিন্তাভাবনা কর।
বড় সমস্যা
অনেক সময় আবার নিজের আত্মসম্মানের বিষয়টা বেশ গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। কারণ তুমি তোমার নিজের ইচ্ছেটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছ, কিন্তু বুঝতে চাইছ না, অভিভাবকদের চাওয়া-পাওয়াটাও ফেলনা নয়। এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র উপায়, সরাসরি আলোচনা করা। তবে সেটা করতে গিয়ে আবার রাগারাগির পর্যায়ে চলে যেও না। বাবার ইচ্ছে জোর করে তোমার উপর চাপিয়ে দেওয়া আমরা সমর্থন করছি না। কিন্তু ঝগড়াঝাটি করেও তো কোনো সমাধান করা যাবে না, তাই না? বুঝতে হবে তিনি কেন এমন করছেন? কোনো কারণ তো আছেই। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, তিনি হয়তো তোমাকে এমন কিছু হতে বলছেন যেটি উনি হতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে তোমাকে বুঝাতে হবে যে, তুমি যেটা করতে চাইছ, তুমি নিশ্চিত যে এ পেশায় ভালো করবে, সে আত্মবিশ্বাস তোমার আছে। কিন্তু বাবা যেটা বলছেন সেটা তোমার জন্য মানানসই নয়, তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাবা নিশ্চয়ই চাইবেন না, তার সন্তানের ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত থাকুক। তবে মুখ ফুটে নিজের ইচ্ছের কথা বাবাকে নম্রতার সঙ্গে জানাতে হবে। এমন কোনো সমস্যা নেই যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। নিজের প্রিয়জন বাবাকে বুঝানো তো অসম্ভব কিছু না।
