বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৩
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত্বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সমাধিসৌধের বেদীর পাশে কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং বনানীতে ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হেলিকপ্টার যোগে টুঙ্গিপাড়া যান। হেলিকপ্টার থেকে নেমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলে যান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে। সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত ফাতেহা পাঠ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মোনাজাতে দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। রাষ্ট্রীয় এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অশ্রু সজল হয়ে পড়েন। তাঁর দু’ চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে শোকাশ্রু। বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে শোক দিবসের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরের বেদীতে ফুল দিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শোক দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আসমত আরা সাদেক, প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ এএসএম ফিরোজ, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এসময় সংসদ সদস্যগণ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেইন ভুঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী ছাড়াও ৩ বাহিনীর প্রধানগণ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা শরিক হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে মিলাদ মাহফিলের মোনাজাতে অংশ নেন। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করার পর সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে দিনব্যাপী সর্বস্তরের মানুষের ঢল ছিল। গতকাল টুঙ্গিপাড়ার সর্বত্র উড়ছিল কালো পতাকা। শোক দিবস উপলক্ষে কালো কাপড় দিয়ে নির্মিত তোরণে শোকের চিহ্ন ফুটিয়ে তোলা হয়। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত্বার্ষিকী উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২১৫টি মসজিদে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালিবাড়িতে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা হয়।