বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির পিতাকে স্মরণ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৪
বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর, শোককে শক্তিতে পরিণত করে ক্ষুধা-দারিদ্র্য মুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ ও অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং একাত্তরের ঘাতকদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত্বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। গতকাল শুক্রবার শোকাবহ ১৫ আগস্টে দিনব্যাপী বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় চোখের জল আর হূদয়ের ভালবাসায় স্মরণ করেছে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল শহীদদের। সকাল সাড়ে ৬টায় দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবুদল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ দুটি স্থানে প্রধানমন্ত্রী সুরা ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সব হারানোর বেদনার্ত অশ্রু সবাইকে আবেগতাড়িত করে। এবার জাতীয় শোক দিবসে শোকাচ্ছন্ন নীরবতায় যেন থমকে গিয়েছিল গোটা বাংলাদেশ। ৩৯ বছর আগের ভয়াল সেই রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করেছে গোটা জাতি। জাতির পিতা হারানোর বেদনায় বাঙালি জাতি দিনভর কেঁদেছে। বঙ্গবন্ধুর মাজার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বনানীতে ১৫ আগস্টে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের স্রোত অতীতের সকল রেকর্ডকে যেন এবার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শাহাদত্বার্ষিকীতে যারা মিথ্যা জন্মদিন পালনের নামে উল্লাস করেছে তাদেরকে ঘৃণা ও ধিক্কার জানিয়েছে শোকার্ত মানুষ। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর দিনভর ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ ও বিশিষ্টজনসহ সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল। সারাদেশই যেন শোকের লাখ লাখ কালো ব্যানার, ফেস্টুন আর পোস্টারে ঢেকে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারস্থল হয়ে উঠেছিল শোকার্ত লাখো মানুষের মিলন মোহনা। শহরজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে শোকের তোরণ ও পোস্টার, কালো পতাকা, বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের সেই ভাষণ ও স্মৃতি জাগানিয়া গানে গোটা রাজধানীর পরিবেশটাই পাল্টে গিয়েছিল। দিনভর কৃতজ্ঞ বাঙালির শ্রদ্ধা আর ভালবাসার পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে উঠেছিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর জাতির পিতার প্রতিকৃতি, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার এবং বনানীস্থ ১৫ আগস্টের শহীদদের সমাধিস্থল। অগণিত মানুষের হূদয়ের আবেগ, প্রগাঢ় শ্রদ্ধা আর ১৯৭৫ সালের সেই ভয়ঙ্কর কালরাতের বেদনাবিধূর স্মৃতিচারণ করেছে জাতি। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ, সংগঠন এবার বিস্তারিত কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করছে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দিনব্যাপী শহরজুড়ে মাইকে প্রচারিত হয়েছে কোরআন তেলোয়াত এবং এর ফাঁকে ফাঁকে দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগানিয়া গান। এছাড়া মাইকে উচ্চারিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর তেজোতীপ্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠের সেই আহ্বান:‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এবার জাতীয় শোক দিবসের দলীয় আয়োজনকে বহুগুণে ছাপিয়ে গিয়েছিল গণমানুষের আয়োজন। শহরের প্রত্যেক পাড়া মহল্ল¬ায়, সড়কের পাশ দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়েছে খানিক পরপরই কালো ব্যানার, কালো পতাকা উড়িয়ে চলছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া বাঙালি জাতি যেন স্বজন হারানোর বেদনায় ব্যথাতুর হয়ে ওঠেন। ৩৯ বছর আগের ভয়াল এক রাতের শোকাবহ স্মৃতি স্মরণ করছে বাংলাদেশ। জাতীয় শোক দিবস পালনে গতকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে তোলা হয়। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে তাত্পর্যপূর্ণ কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাদ জুম্মা সারাদেশে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানসমূহ সরাসরি সমপ্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। এছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশ এর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মা-ভাইয়ের সমাধিপাশে শোকবিহ্বল প্রধানমন্ত্রী গতকাল ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় বনানীর কবরস্থানের সারি বাঁধা ১৮টি কবর। এসব কবর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নরপিশাচ ঘাতকচক্রের নির্মম বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নিহত বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শিশুপুত্র রাসেলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ৩৯ বছর আগে ঘাতকদের বন্দুকের নলের মুখে স্বজনদের চোখের জলে শেষ বিদায়টুকু দিতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। গতকাল শুক্রবার সকালে মা-ভাইদের কবরে গিয়ে চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারেননি একসঙ্গে সব স্বজনহারা শোকবিহ্বল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় স্বজনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করেন। জাতির পিতার এই কন্যা নিজ হাতে মুঠো মুঠো ভালবাসার ফুল ছড়িয়ে দেন প্রিয় স্বজনদের কবরে। নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে গেলে সেখানে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই সেখানে চলছিল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরানখানি ও দোয়া মাহফিল। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একে একে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের শোকার্ত মানুষের ঢল স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনের লেকের পাড়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা লাখো মানুষের ঢল। সকাল ৬টার মধ্যেই ভরে ওঠে পুরো ৩২ নম্বর সড়ক। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুরো এলাকা। কালো ব্যানার হাতে ও বুকে কালোব্যাজ ধারণ করে নারী-পুরুষ এবং শিশু কিশোরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতির পিতাকে স্মরণ করে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। স্বেচ্ছাসেবক লীগ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক যে আলোকচিত্রের আয়োজন করে তা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি জেপি’র শ্রদ্ধা নিবেদন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত্বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) পক্ষ হতে গৃহীত ২ দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন গতকাল সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ঢাকা ও টুঙ্গী পাড়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালন করে জেপি। সকালে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে জেপি’র নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। এসময় জেপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, ভাইস চেয়াম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, মোহাম্মদ হোসেন রেনু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম তপন, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ন কবির তালুকদার রাজু, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী, বাগেরহাট জেলার জেপি’র আহ্বায়ক এ্যাড. মো:শহিদুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকাল ৮টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় জেপির অন্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আজিজ বাঙাল, যুগ্ম মহাসচিব জামিলুল হক বকুল, মাহাববুর রহমান লিপটন, গাজী আমিনুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক এম. সালাহউদ্দিন আহমেদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো: আ: হালিম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবুল মান্নান বাবু, মানবাধিকার সম্পাদক নূরুল ইসলাম মিয়া, নওগাঁ জেলার আহ্বায়ক মো:সাইদুর রহমান (বকুল), যুবসংহতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মঞ্জুর হাবিব (মঞ্জু) ও জেড সেলিম প্রমুখ। পরে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের মাজারে জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। এছাড়াও বাদ জুমা বিভিন্ন মসজিদে ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। জাতীয় পার্টির (জেপি) সকল শাখা স্ব স্ব উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ফিল্ম আর্কাইভ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমী, খেলাঘর, বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বন অধিদফতর, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় মহিলা সংস্থা, মহিলা শ্রমিক লীগ, তরুণ লীগ, মত্স্যজীবী লীগ, হকার্স লীগ, তাঁতী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, ঢাকা সিটি করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, গণপূর্ত শ্রমিক লীগ, মোটরচালক লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, ওলামা লীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ মূল্যায়ন ও গবেষণা সংসদ, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক প্রভৃতি ব্যাংকের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, ছিন্নমূল হকার্স লীগ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, ঢাকাস্থ টুঙ্গিপাড়া সমিতি, হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ, সাধনা সংসদ, আওয়ামী শিশু-কিশোর যুব জোট, নির্মাণ শ্রমিক লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদ, জননেত্রী পরিষদ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমী, সোনার বাংলা যুব পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারী লীগ, স্থলবন্দর শ্রমিক লীগ, বিসিএস পাবলিক ওয়ার্কার্স ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন, টেলিযোগাযোগ শ্রমিক ইউনিয়ন, বিআইডব্লিউটিএ ঘাট শ্রমিক ইউনিয়ন, ঢাকা নৌবন্দর ঘাট শ্রমিক বহুমুখী সমবায় সমিতি, বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদ, শহীদ মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ শান্তি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমী, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, স্বাধীনতা ডিপ্লোমা চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, বৃহত্তর ফরিদপুর চাকরিজীবী কল্যাণ সমিতি, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, নৌকার নতুন প্রজন্ম, আওয়ামী আইন ছাত্র পরিষদ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ, ডিপ্লোমা নার্সেস এসোসিয়েশন, সেন্টার ফর মেডিক্যাল এডুকেশন, বঙ্গরত্ন ফাউন্ডেশন, চিলড্রেন্স ভয়েস, সনাতন আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ, সাধনা সংসদ, প্রশিকা, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, আবদুস সামাদ আজাদ ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু শিল্পীগোষ্ঠী, সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু ফেডারেশন, টিঅ্যান্ডটি শ্রমিক ফেডারেল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহানগর পূজা কমিটির উদ্যোগে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। মতিঝিলস্থ সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্যাংকের এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও কাঙ্গালি ভোজ বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দি। কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজন করে আলোচনা সভা। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ‘সাংবাদিক সমাজ’-এর উদ্যোগে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। আগারগাঁওস্থ সমবায় অধিদপ্তর ও কাওরান বাজারে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের পৃথক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গা।