ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের অস্ত্র যোগান দিতে জরুরি বৈঠকে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। গতকাল শুক্রবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহ করছে। এদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও গার্ডিয়ানের।
কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারা সেখানে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া’র (আইসিস) বিরুদ্ধে লড়াই করছে। প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করার পর দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় নতুন প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি ও অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় শিয়া নেতারাও টেলিভিশন স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। ইরাকের পার্লামেন্টের সাবেক ডেপুটি স্পিকার আবাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক চাপের মুখে ছিলেন মালিকি। ভাষণে নিজের পদত্যাগের ঘোষণার আগে ইসলামিক স্টেট’র (আইসিস) সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ হুমকির কথা উল্লেখ করেন মালিকি। ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে ঘোষণা করছি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য এবং নতুন সরকার গঠনের জন্য আমি আমার ভাই ডক্টর হায়দার আল আবাদির পক্ষে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। নিজের আট বছরের শাসনের উল্লেখ করে মালিকি বলেন, এর বেশিরভাগ সময় ব্যাপক সন্ত্রাস ও সরকারবিরোধী তত্পরতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। তবে মালিকির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন সমপ্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন। যে কারণে সুন্নিপন্থী আইসিস গোষ্ঠী ইরাকের বিভিন্ন শহর নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। অনেকটা চাপে পড়ে প্রেসিডেন্ট তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন।
নুরি আল-মালিকির পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কিন মুন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুজান রাইস বলেছেন, নুরি আল-মালিকি সরে দাঁড়ানোর পর ইরাকিরা এখন ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের হুমকি মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারবে বলে তিনি আশা করেন। ইরাকের বর্তমান অবস্থাকে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে খুবই গুরুতর বলে বর্ণনা করেছে। সেখানে ইসলামি জঙ্গিদের সহিংসতার মুখে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জানিয়েছেন, জঙ্গিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চলবে। ব্রিটেনের সরকার ও বিরোধী দল কুর্দিদের অস্ত্র সরবরাহে সম্মত হয়েছে।
