১২টি সাঁকো পেরিয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামটি শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুত্, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। গ্রামটিতে প্রায় ৩ হাজার ৫শ’ লোকের বসবাস হলেও এখানে ভোটার রয়েছেন প্রায় দেড় সহস্রাধিক। শুষ্ক মৌসুমে এ গ্রামের বাসিন্দারা জমির আইল দিয়ে কোনমতে যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকাই তাদের প্রধান বাহন।
গ্রামটিতে ঘুরে এলাকাবাসির সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় ১২টি বাঁশের সাঁকো দিয়ে গ্রামবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ওইসব বাঁশের সাঁকো পার হয়ে ছেলে-মেয়েদের পার্শ্বের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এসব সাঁকো দিয়ে স্কুলগামী ছোট ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ফলে বর্ষার সময় অনেক শিশু স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
গ্রামটির দিনমজুর মৌজে আলী বেপারী (৬০) জানান, তাদের গ্রামে কৃষি একমাত্র আয়ের উত্স। কিন্তু প্রতিবছর ইরি-বোরো মৌসুমে তাদের জমিতে পানি সেচ দিতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গ্রামের তিন পার্শ্বে তিনটি খাল থাকলেও দীর্ঘদিনেও তা খনন করা হয়নি। ফলে পানি চলাচলে বাধার সম্মুখীন হওয়ায় সেচ কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক ঘরামী জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া পড়েনি এ গ্রামে। পুরো গ্রামটিতে নেই কোন বিদ্যুত্ ব্যবস্থা। ফলে সকল প্রকার বিনোদন থেকে বঞ্চিত রয়েছে এ গ্রামের বাসিন্দারা।
পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল হাসান সবুজ জানান, সাত বছর পূর্বে গ্রামের উত্তরপ্রান্ত মেদাকুল বাজার থেকে ১৪ ফুট ব্রিজ নামক স্থান পর্যন্ত একটি মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি সংস্কার না করায় এখন তা চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, তাদের গ্রামের উত্তরপ্রান্তের আশ্রাব আলী সরদারের বাড়ির সম্মুখে ও দক্ষিণপ্রান্তের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক ঘরামীর বাড়ির দক্ষিণপার্শ্বের খালে দুটি ব্রিজ কিংবা কালভার্ট নির্মাণ করা হলে কিছুটা হলেও গ্রামবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ কমবে। খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকন ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্রামটির এ সকল সমস্যার কথা উপজেলা সমন্ময় সভায় বহুবার বলা হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি।
