ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে কালো পতাকা মিছিল করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এই মৌন মিছিলে কালো পতাকা উঁচিয়ে ইসরাইলের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রদর্শন করা হয়। গতকাল বিকাল পৌনে ৪টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নয়াপল্টন এলাকা থেকে এ মিছিল শুরু হয়। নাইটেঙ্গেল মোড়, কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে তা শেষ হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গাজায় নিরীহ নারী ও শিশুসহ প্রায় দুই হাজার মুসলমানকে নির্বিচারে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইল। আজ আমরা আহ্বান জানাব, অবিলম্বে ওই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করুন। দখল করা জমি ও বাড়ি ফিরিয়ে দিন। আমরা ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ঘোষণা করছি, আগ্রাসনের শিকার ফিলিস্তিনের নিরীহ মুসলমানদের পাশে আমরা আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পক্ষে রয়েছে। এটা আমরা বিশ্বকে জানাতে চাই।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের এই মিছিল সরকারের বিরুদ্ধে নয়। এখানে কোন শ্লোগান হবে না। মিছিল হবে শান্তিপূর্ণ।
এদিকে, দুপুর থেকেই নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হতে শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে ছিল ছোট ছোট লাঠির মাথায় কালো পতাকা ও কালো ব্যানার। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা থেকে হাজার হাজার মানুষ ইসরাইল বিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে আসেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খোলা ট্রাকের ওপর বসানো মঞ্চ থেকে নেতারা শ্লোগানমুখর নেতা-কর্মীদের শ্লোগান বন্ধ করে দেন। তারা ঘোষণা করেন, কালো পতাকা মিছিলে কোন শ্লোগান হবে না। মিছিল হবে মৌন। মিছিল শুরুর আগে জনসমাগম একপর্যায়ে নয়াপল্টনের পশ্চিমে কাকরাইল মোড়, পূর্বে ফকিরাপুল মোড় ছাড়িয়ে যায়। মানুষ এসব এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে জড়ো হন। মিছিল শুরু হয় বিকাল ৪টায়। মিছিল মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ করার কথা থাকলেও এর পেছনের অংশ থেকে যায় নয়াপল্টন এলাকায়।
মিছিলে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, রিজভী আহমেদ, মো. শাহজাহান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, নাজিমউদ্দিন আলম, নাসির উদ্দিন অসীম, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, নূরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।
এছাড়া ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, শফিউল আলম প্রধান, মোস্তফা জামাল হায়দার, সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গোলাম মোর্ত্তুজা, জেবেল রহমান গাণি, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, আজহারুল ইসলাম, এমএম আমিনুর রহমান, শেখ জুলফিকার আহমেদ, জামায়াতের সেলিম উদ্দিন ও ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাসহ অন্য নেতারা মিছিলে অংশ নেন।
