বরুণ গান্ধীকে বাদ দিয়েই বিজেপি’র সর্বভারতীয় কমিটি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫০
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা দলের (বিজেপি) সর্বভারতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার গঠিত কমিটিতে দলটির সভাপতি অমিত শাহ ১১ জন সহ-সভাপতি, ৮ জন সাধারণ সম্পাদক, ১৪ জন সম্পাদক এবং ১০ জন দলীয় মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করেছেন। বাদ পড়েছেন দলটির নেতা কংগ্রেস পরিবারের অন্যতম সদস্য বরুণ গান্ধী। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার। বিজেপি’র সভাপতি হিসেবে অমিত শাহের নামে সীলমোহর পড়েছে গত শনিবার। মাঝখানে কেটেছে মাত্র একটা সপ্তাহ। ফের সেই শনিবারকেই অমিত শাহ বেছে নিলেন নতুন কমিটি গঠনের জন্য। আগে থেকেই জল্পনা ছিল যে, অমিত শাহ নিজের মতো করেই কমিটি সাজাবেন। কিন্তু অন্য সবাই যেমন তেমন একজনের বাদ পড়ায় অবাক হয়েছেন অনেকেই। তিনি সুলতানপুরের সংসদ সদস্য বরুণ গান্ধী। তবে দলটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় বরুণের মা মানেকা গান্ধীকে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ায় তাকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বরুণ গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বও পালন করছিলেন। দলটিতে কর্ণাটককে শক্তিশালী করতে বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে আবার ফিরিয়ে এনে (৭১) ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে তাকে একটা সময় দলই বাধ্য করেছিল মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদ থেকে ইস্তফা দিতে। পরের দিকে নির্বাচনের কাজে লাগানো হয় ইয়েদুরাপ্পাকে। বিজেপি’র দাবি, নতুন কমিটি গঠনে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সদস্যদের অর্ধেকের বয়স পঞ্চাশের নীচে। বাকি সদস্যদের ৯৯ শতাংশের এখনও ষাট হয়নি। বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক জে পি নাড্ডা এ দিন বলেন, অমিত শাহের নেতৃত্বে নতুন এই যুবা টিম প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বপ্নপূরণে কাজ করবে। সহ-সভাপতি পদে রয়েছে মুক্তার আব্বাস নাকভির নাম। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদকের পদে নতুন যে চার জনকে নিয়ে আসা হয়েছে, তাঁরা হলেন, রাম মাধব, সরোজ পাণ্ডে, ভূপেন্দ্র যাদব এবং রামশঙ্কর ক্ষেত্রিয়া। এদের মধ্যে রাম মাধবের পরিচিতি সংঘ পরিবারের মুখ হিসেবে। এর আগে অমিতের নামে সীলমোহর দিতে সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছিলেন মোদী। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছে জে পি নাড্ডা, রাজীব প্রতাপ রুডি, মুরলীধর রাও এবং রামলালের নামও। বিজেপি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে এই প্রথম এক জন সাধারণ সম্পাদককে দলের তরফে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। বিজেপি মনে করে, বাজপেয়ীর আমলে সরকারের সঙ্গে দলের ব্যবধান বেড়ে যাওয়াটা পরের বার ক্ষমতায় আসতে না পারার অন্যতম কারণ। ফের সেই ভুলের পথে পা বাড়াতে চায় না বিজেপি নেতৃত্ব।