উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার এবং নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এছাড়া বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধান ক্ষেত। শুক্রবার রাতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ডিমলার ডালিয়া-তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী গতকাল শনিবার রাত ৮টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাটে ১০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। ভুরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ভাঙ্গনে সোনাহাট রেলওয়ে সেতু হুমকির মুখে পড়েছে।
৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও এনায়েতপুরে অন্তত ১০ গ্রাম নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির কারণে এনায়েতপুরে ২০ হাজার তাঁত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে সিলেটে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্থানে স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। শনিবার দুপুরে সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদী বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জে ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। খবর আমাদের অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
রংপুর:উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার পরিবার। বন্যার্ত ঐসব পরিবারের মাঝে এ পর্যন্ত পৌঁছায়নি কোন জরুরি ত্রাণ সহায়তা। এদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর আমন ধান ক্ষেত। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ৬টায় গঙ্গাচড়ার উজানে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গতকাল সকাল ৬টায় তা কমে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং দুপুর ২টায় ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভাটিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার পানি শনিবার দুপুর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, গঙ্গাচড়া, লক্ষ্মিটারী, গজঘন্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামে ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট। ঘরের ভিতরে পানি ঢুকে পড়ায় ঐসব পরিবারের মানুষজনসহ পশু-পাখিকে আশ্রয় নিতে হয়েছে চকি ও মাচার উপর। পানিবন্দী পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র ছুটছেন। অনেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, কেউ কেউ ফ্লাড সেন্টার, উঁচু রাস্তা কিংবা বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে। গৃহপালিত পশু-পাখিসহ পানিবন্দী পরিবারগুলো জ্বালানি, পানীয়জল ও খাদ্য সংকটে ভুগছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষেত। বন্যায় প্লাবিত গ্রামগুলো হল নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, চর বাগডহরা, বৈরাতি ও পূর্ব নোহালী, আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান হাজীপাড়া ও ব্যাঙপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর চিলাখাল, খলাইর চর, চর বিনবিনা, চর মটুকপুর, সাউদপাড়া ও চর আলেকিশামত, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের চর ধামুর, মাঝাপাড়া ও দোলা গান্না, লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের চর শংকরদহ, পশ্চিম ইচলী, পূর্ব ইচলী, কলাগাছি, মধ্য ইচলী, জয়রামওঝা, চর ইশ্বরকোল, চর মহিপুর, বুড়িডাঙ্গী, গজঘন্টা ইউনিয়নের চর ছালাপাক, কালির চর ও চর রাজবল্লভ, মর্নেয়া ইউনিয়নের নিলারপাড়, চর মর্নেয়া, আলাল চর, রমাকান্ত, মহিষাশুর, চর মৌভাষা, রামদেব, কামদেব ও ভাঙ্গাগড়া গ্রাম। লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের ফয়ছাল হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দেয়। এতে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। পানিবন্দী পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র না থাকায় তারা পার্শ্ববর্তী উঁচু রাস্তা ও বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে পানিবন্দী হয়ে ঘরের ভিতরেই চকির উপর অবস্থান নিয়েছে। এদের মধ্যে খাদ্য, জ্বালানি ও পানীয়জল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মমিনুর ইসলাম বলেন, গত ৩ দিনের বন্যায় তিস্তার চরাঞ্চলে ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিনি এসব পরিবারের জন্য সরকারিভাবে জরুরি শুকনো খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহের দাবি জানান। উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু গতকাল শনিবার বন্যাদুর্গত ধামুর, বোল্লারপাড়, মাঝাপাড়া ও দোলাগান্নাসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। চলতি মৌসুমে তিস্তায় কয়েক দফা বন্যা দেখা দিলেও উপজেলার বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি, তবে জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।
নীলফামারী ও ডিমলা:তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় শুক্রবার রাতে ডিমলার ডালিয়া-তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করে সংশ্লিষ্টরা। তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবার রাত ১০টায় নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার ফলে এই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। তবে শনিবার দুপুরে তিস্তার পানি কিছুটা কমে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিস্তা গর্জে উঠায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোলাপাড়া নামক স্থানে বাঁধের হার্ড পয়েন্টের ৪ নং স্পার বাঁধ ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। স্পার বাঁধটির উজানের ১৫ মিটার পাড়ের মধ্যে ১০ মিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঐ এলাকার ১০ একর আবাদি জমি ফসলসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিস্তার ঢলের কারণে নীলফামারীর তিস্তাপাড়ের ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার অনেক পরিবারকে রাতে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এসব এলাকায় খাদ্য সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয়জলের।
তিস্তার পানির স্রোত পূর্ব বাইশপুকুর, পশ্চিম বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, চর খরিবাড়ি, ছোটখাতা, ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, ছাতনাই বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেন্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, সতিঘাট, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী, কৈমারী গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পাউবোব সূত্র মতে গত ৩ মাসের ব্যবধানে তিস্তা ৮ দফা বিপদসীমা অতিক্রম করলেও শুক্র ও শনিবার পানির স্তর ছিল সবচেয়ে বেশি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, শুক্রবার রাতে তিস্তা নদী সংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাইশপুকুরে গ্রামের রাস্তায় গ্রামবাসীর পাশাপাশি গ্রাম্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডালিয়া পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুরতুজামান জানান, টেপাখড়িবাড়ীর স্পার বাঁধটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা না হলে স্পার বাঁধটি নষ্ট হয়ে প্রধান বাঁধে আঘাত হানতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সর্বত্র সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়। তিনি বলেন, তিস্তার প্রবল সে াতের কারণে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোলাপাড়া ৪ নং স্পার বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে।
লালমনিরহাটে ১০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত
লালমনিরহাট: উজান থেকে নেমে আসা ঢলে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদী সংলগ্ন সদর উপজেলাসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা উপজেলার কমপক্ষে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি গতকাল দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় তা কমে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পাউবো জানিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তিস্তার পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে বলে এ প্রতিনিধিকে জানান। একদিকে গোটা জেলায় যেখানে চলতি আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে চারা রোপণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে সে সময় তিস্তাপারে অকস্মাত্ বন্যায় হাজারো মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তিস্তা নদী সংলগ্ন উল্লেখিত ৪টি উপজেলার চর গ্রামসহ কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
সোনাহাট সেতু হুমকিরমুখে
ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম):উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ও দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙ্গনে সোনাহাট রেলওয়ে সেতুটি হুমকিরমুখে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল ১১টা থেকে ছয় ঘন্টা সেতুটির দুই পাশে টায়ার জ্বালিয়ে, বাঁশ ও ড্রাম ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে সেতুটির দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেএম এরশাদ আহসান হাবিব ও থানা পুলিশ দুপুর দুটায় অবরোধ তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
জানা যায়, সেতুটির সংযোগ সড়ক রক্ষা বাঁধের জন্য ২০১২ সালের ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৮৬৮ মিটার তীর রক্ষা বাঁধের কাজ পায় ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যথা সময়ে ব্লকগুলো না ফেলায় তীব্র ভাঙ্গনের শিকার সেতুটির সংযোগ সড়ক।
চৌহালী ও এনায়েতপুরের ১০ গ্রামে নতুন করে বন্যা
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ): ৩ দিন ধরে চলা টানা বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জের চৌহালী এবং এনায়েতপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকেই সারাদিন বৃষ্টি থাকায় ঘর থেকে মানুষ কর্মস্থলে বের হতে পারছে না। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে তাঁত শিল্প নির্ভর এনায়েতপুর থানার প্রায় ৩০ হাজার হস্ত ও ইঞ্জিন চালিত তাঁতের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার তাঁত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানির পাশাপাশি সূর্যের দেখা না পাওয়ায় সুতা শুকানো ও কাপড় বুনতে পারছে না শ্রমিকেরা। এ অবস্থায় ঈদের ছুটির পর এ সময় পুরোদমে তাঁতে শাড়ি-লুঙ্গি উত্পাদনের কথা থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে তাঁতীদের ব্যবসায় মন্দাভাব এবং তাঁত শ্রমিকদের বসে বেকার দিন কাটাতে হচ্ছে। আর এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে এই থানার খুকনী, রুপনাই, গোপালপুর, গোপরেখী, মাধবপুর, গোপীনাথপুর, শিবপুর, এনায়েতপুর, খামারগ্রাম এলাকাগুলোর তাঁত পল্লীর প্রায় অর্ধলাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে বলে তাঁতীদের সংগঠন বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম পাওয়ারলুম ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান বদি এবং খামারগ্রামের তাঁত মালিক তফাজ্জল হোসেন বাবুল, রুপনাই গ্রামের হাজী বাবুল হোসেন জানিয়েছেন।
সিলেটে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত
সিলেট: সিলেটে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্থানে স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর এলাকার মহেশখলা এলাকায় প্রচণ্ড ঢলের তোড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যনগরের বাজারে সীমানা দেয়ালের নীচের মাটি সরে গিয়ে দেয়ালটি হুমকির সম্মুখীন। সড়ক উপচে ঢলের পানি জনপদ ডুবিয়ে দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমদ পরিস্থিতি দেখতে সেখানে ছুটে যান। তিনি গতকাল বিকালে ইত্তেফাককে জানান, পাহাড় থেকে বিপজ্জনক মাত্রায় ঢল নামছে। মহেশখলায় বিজিবি ক্যাম্প-এর সামনের রাস্তাটি ঢলের তোড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে।
গত তিনদিনের অবিরাম বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পিয়াইন ও সারী নদীর ঢলে সিলেটের এই তিন উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। রোপা ও বোনা আমন এবং বীজতলা, রোপা আউশ ও ইরি ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। পাথর ব্যবসায়ী ও পাথর বহনকারী যানবাহনের মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন।
গোয়াইনঘাট: শনিবার ঢল হ্রাস পাওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম চৌধূরী। তিনি জেলা প্রশাসনের নিকট ত্রাণ চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারী ভোলাগঞ্জ ও শ্রীপুর, জাফলংসহ বিভিন্ন কোয়ারীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার। জাফলং পিয়াইন নদীতে হাজার হাজার নৌকা নদীর তীরে শ্রমিকরা বেঁঁধে রেখেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচল সমপূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
জৈন্তাপুর:উপজেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের কয়েকটি রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। সারী-নদী বড়গাং, শ্রীপুর, রাংপানি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ:টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার খেটে খাওয়া মানুষ। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৩০-৪০টি গ্রামের প্রায় ৫০ সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। ধলাই ও সোনাই নদীর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
