জিয়া যে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত, ফারুক-রশীদের বক্তব্যই তার প্রমাণ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৪
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্কালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে জড়িত ছিলেন আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক-রশীদের সাক্ষাত্কারই তার প্রমাণ। ওই দুই খুনী বিবিসি’কে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পূর্বে তারা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। এ সময় জিয়া তাদেরকে ইশারায় জানিয়ে দিয়েছিল তাদের সঙ্গে সেও রয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের দোসর এবং ইতিহাস বিকৃতকারীদের মুখোশ জাতির সামনে আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল অপরাহ্নে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে ছোট ভাই শিশু রাসেলসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠের বক্তব্য শুনে অঝরে চোখের পানি ফেলেছেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা খুনী ও তাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান তোলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে খুনী ও তাদের দোসররা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ বানানোর চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়, পাকিস্তানের ভাবধারায় ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু ওই সময় তীব্র জনমতের চাপে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়। কথিত কিছু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করায় বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ অনেক শান্তিতে রয়েছে। তবে এটা দেশের কিছু মানুষের ভাল লাগছে না। অপরের দাসত্ব ও তোষামোদি করাই তাদের প্রধান কাজ। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে তারা বিশ্বাসী নয়। পরের দাসত্ব করাই যাদের অভ্যাস তাদের গণতান্ত্রিক পরিবেশে কোন কিছু ভাল লাগবে না এটাই স্বাভাবিক। খুনী চক্র শুধু একজন ব্যক্তিকে হত্যা করেনি। প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করা হোক না কেন, উন্নত-সমৃদ্ধ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে পিছু পা হব না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউই রুখতে পারবে না। নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথানত করি না। আমার কোন ভয়-ভীতি নেই, মৃত্যুকেও পরোয়া করি না। এ দেশের জন্য আমার মা-বাবা, ভাইসহ সবাই জীবন দিয়ে গেছেন, দেশের জন্য লাখো শহীদ তাদের জীবনকে উত্সর্গ করে গেছেন। সেই তুলনায় আমার জীবন তো তুচ্ছ। তাছাড়া আমার হারাবারও তো কিছু নেই। জনগণের মঙ্গলের জন্য আমরা জীবনকে উত্সর্গ করেছি। যতক্ষণ বেঁচে থাকবো দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাব। জীবনে কী পেলাম বা কী পেলাম না সেটি আমার কাছে বড় নয়, দেশের মানুষকে কী দিতে পারলাম সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবদিক থেকে আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিদেশে ঘুরতে হয় না। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ আজ শক্তিশালী, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। তাই যত বাধাই আসুক না কেন, সবকিছু মোকাবেলা করে আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবোই। এবারের জাতীয় শোক দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করবোই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৩৯ বছর ধরে আমরা দু’বোন সব হারানোর ব্যথা-বেদনা বুকে ধারণ করে দিন কাটাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও জিয়া আমাকে দেশে আসতে দেয়নি। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে চরম বেঈমানী ও মোনাফেকি করেছিল খুনী মোশতাক। কিন্তু পলাশীর যুদ্ধে বেঈমান মীরজাফর ক্ষমতা দখল করেও যেমন তিন মাস টিকতে পারেনি, খুনী মোশতাকও তিন মাস ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। পঁচাত্তর পরবর্তী ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়াউর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে রাজাকার-আলবদর-আলশামস সৃষ্টি করে যারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল, সেই যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়া। ক্ষমতায় গিয়ে জিয়া প্রায় ১১ হাজার সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়। আবার তাদের কাউকে প্রধানমন্ত্রী, কাউকে মন্ত্রী-উপদেষ্টাসহ দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় পুনর্বাসন করে জিয়া। এমনকি নাগরিকত্ব হারানো গোলাম আযমসহ অন্য যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দেয়া হয়। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয় জিয়া। বিএনপি নেতা শমশের মবিন চৌধুরীর প্রতি ইঙ্গিত করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রীর বর্তমান এই নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় পায়ে গুলি খেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তাকে জার্মানী থেকে চিকিত্সা করিয়ে এনে সুস্থ করেন। একই সঙ্গে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও দয়া করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে চাকরি দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়ার নির্দেশে তিনি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের লিবিয়াতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ঐ নেতার প্রতিদান ছিল এটাই। শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর ‘৭৫ থেকে ‘৮৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১১ বছর প্রতিরাতেই দেশে কারফিউ থাকতো। এভাবেই দেশ চালিয়েছে সামরিক স্বৈরাচাররা। ঐ সময় প্রায় ১৯টি ক্যুর ঘটনায় জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীর প্রায় আড়াই হাজার অফিসার ও সৈনিককে গুলি অথবা ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে। এক ক্যু’তে একমাত্র বিমান বাহিনীরই ৬৬০ জন অফিসারকে জিয়ার নির্দেশে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এই জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কাজ শুরু করেছিল। তার পরবর্তী ক্ষমতায় আসা সকল সামরিক স্বৈরাচাররাও একই কাজ করেছে। যে কাজটি এখন করছেন বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দম্ভোক্তি করেছিল যে, তাদের কেউ বিচার করতে পারবে না। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দিয়েছিল বলেই আল্লাহর রহমতে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছি। খুনীদের দণ্ডাদেশ কার্যকর করেছি। বীর বাঙালির কপালে লেপিয়ে দেয়া কলঙ্কের তিলক মুছে ফেলেছি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য একেএম এনামুল হক শামিম। সভায় কবিতা আবৃত্তি করেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। আমির হোসেন আমু জাতীয় শোক দিবসে মিথ্যা জন্মদিন পালন করে নিজের পরিবারের চরিত্র হনন না করার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজনের একাধিক জন্মদিন থাকলে প্রশ্ন উঠে সে কোন বাবা-মার সন্তান? তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট সংঘটিত করেই জিয়াউর রহমানের উত্থান হয়েছিল। ১৫ আগস্ট ঘটিয়ে জিয়া প্রধান সামরিক প্রশাসক এবং পরে রাষ্ট্রপতি এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাই বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত্ বার্ষিকীতে খালেদা জিয়া কেক কেটে উল্লাস করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে পৃথিবীর কোন শক্তিই আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারবে না। খুনীদের দোসর ও জাতীয় শোক দিবসে প্রতিহিংসাবশতঃ মিথ্যা জন্মদিন পালনকারীদের সঙ্গে কখনো সংলাপ হতে পারে না। খালেদা জিয়াকে নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এই জিয়াই খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু জিয়াকে ডেকে বলেছিলেন, বউকে আর কষ্ট দিও না, একসঙ্গে থাক। অথচ সেই খালেদা জিয়াই আজ বঙ্গবন্ধুর হত্যার দিনে ভুয়া জন্মদিনের নামে কেক কেটে উল্লাস করেন! এতে প্রমাণ হয়- খালেদা জিয়ার মতো এমন নিষ্ঠুর ও হূদয়হীন নেত্রীকে দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের মানুষের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা তার নেই। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, জনগণ আর রক্তাক্ত ১৫ আগস্টে নকল মিথ্যা জন্মদিনের নামে প্রতিহিংসার কেক কেটে উল্লাস সহ্য করবে না, প্রতিহত করবে। কারণ দেশের মানুষের সহ্যের একটা সীমা আছে। খালেদা জিয়াকে ‘নির্বোধ ও অর্বাচীন নেত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, দুর্ভিক্ষের অর্থনীতির দেশ নয়। তাই চোখ রাঙানির দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই; কিন্তু প্রভুত্ব নয়। এ সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত নির্বাচনের ইতিহাস এবং একাত্তরে নগদ অর্থ দিয়ে কেনা খাদ্যের জাহাজ আটকিয়ে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির কথা তুলে ধরেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগস্ট শোকের মাস। এ মাসে বিএনপি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। তাই আগামীতে শোকাবহ আগস্ট মাসে বিএনপিকে রাজনৈতিক তত্পরতা পরিচালনার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ৭০ বছর বয়সে পাতলা শিপন শাড়ি পরে খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিনের নামে কেক কেটে উল্লাস দেখে দেশের জনগণ ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। আগামীতে তাদেরকে এমন সুযোগ আর জনগণ দেবে না। দেশের জনগণই তার প্রতিহিংসা ও কুরুচিপূর্ণ উল্লাসের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দলের মধ্যে অনেকে আছেন যারা সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করেন। এরা মূলত শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী নয়, দুর্বল করতে চায়। শোক দিবসে ওমুক-তমুকের নামে বানানো ব্যানার-ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধুকে দেখা যায় না, তাদের ছবিই যেন মুখ্য। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অতীতে এমনটি ছিল না। নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের লেখার সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, দেশে কিছু মানুষ আছে তারা কে কি দোকান খুলে কী বলছে তা বুঝি না। অনেকটাই বস্ত্রালয়ে আটা বিক্রির মতো। মানবাধিকার সংস্থার নেতারা পদ্মা সেতুর কথা বলেন, আবার নির্বাচন নিয়ে যাদের কাজ তারা কথা বলেন রাস্তা-ঘাট নিয়ে। দেশের সুশীল সমাজের যদি এমন অবস্থা হয় তবে দেশের কী হবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা, বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মধ্যে নেই; কিন্তু রয়েছে তার আদর্শ ও মহান ত্যাগের অমূল্য ইতিহাস। তাই আমাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুকে বড়ই প্রয়োজন, তার আদর্শ নিয়েই সবাইকে দেশের অগ্রযাত্রায় সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।