প্রজন্ম মুখ

কাজ অন্তপ্রাণ একজন

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২০:১২
সত্যজিত্ রায়ের একটি সিনেমা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আড়াই যুগ আগে তিনি তার কাজ শুরু করেছিলেন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে। মতিউল ইসলাম নওশাদ পরবর্তীতে কাজ করেছেন এইচআর বিভাগে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট নওশাদ এখন একজন চার্টার্ড ম্যানেজার, চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউশনের একজন ফেলো ও এমবিএ। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি দেশের অন্যতম সেরা কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট এবং পিপল অফিসার। তার সফলতার গল্প ও তার নিজের ভিন্নধর্মী ধারণাগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছেন আহসান রনি নওশাদ প্রথম যেখানে কাজ শুরু করেছিলেন, সেখানে তিনি কোনো অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে কাজ পাননি। তিনি খুব স্বপ্নবাজ একজন মানুষ সেই ছোট থেকেই। তিনি ঠিক করেছিলেন, তিনি দেশের সেরা কোম্পানিতে গিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তার সাথে দেখা করবেন। তখন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কোম্পানি ছিল শ ওয়ালেস বাংলাদেশ লিমিটেড। নওশাদ শুধু প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কর্মকর্তার নাম জানতেন; ডেভিড ব্লেক। তিনি একদিন তার অফিসে চলে গেলেন। একটি স্লিপ দিলেন যেখানে দেখা করার কারণ হিসেবে লেখা ছিল বিজনেস। ব্লেক যখন তাকে রুমে ডাকলেন ও জিজ্ঞাসা করলেন কী ধরনের বিজনেসের ব্যাপারে কথা বলতে চান। নওশাদ বললেন, ‘আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে চাই এবং আমার ক্যারিয়ারই হচ্ছে আমার সবচেয়ে বড় বিজনেস।’ ব্লেক তার কথা শুনে খুবই আপ্লুত হন এবং তাকে ঠিকানা রেখে যেতে বললেন। কিছুদিন পর নওশাদ ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি চিঠি পেলেন। সেই চিঠিতে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হলো। যতজন ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল সবাই ছিল তার থেকে অনেক সিনিয়র ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ইন্টারভিউ বোর্ডের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমরা তোমাকে কেন নেব?’ নওশাদ উত্তর দিলেন, ‘আপনি জানেন আমার উপর ইনভেস্টমেন্ট করলে আপনি সবচেয়ে ভালো রিটার্ন পাবেন। কারণ অন্য যাদের আমি বসা দেখেছি তাদের সবাই আমার থেকে সিনিয়র। আমি বেশি সময় ধরে আপনাদের সেবা দিতে পারব এবং আপনাদের প্রয়োজন মেটাতে পারব। আর আমার প্রয়োজন খুবই অল্প। কারণ আমি এখনও নির্ভরশীল একজন মানুষ। তাই আমার চাওয়াও অনেক কম থাকবে।’ তার কাছ থেকে এ ধরনের উত্তর শুনে ইন্টারভিউ বোর্ডের সকলে চমত্কৃত হন এবং তিনি চাকরি পেয়ে যান। সেখানে কাজ করার সময় তিনি তার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন সততা ও আন্তরিকতার সাথে। নিজের বাড়ি চট্টগ্রাম হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে কোটস বাংলাদেশ লিমিটেডে জয়েন করেন। তখনকার সময়ে কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড একটি ব্রিটিশ ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। সেই কোম্পানিতেই তিনি প্রথম এইচআর বিভাগে কাজ করা শুরু করেন। কোম্পানিটি বাংলাদেশে তখন অনেক নতুন ছিল। সেই কোম্পানিতে নিজের পারফর্মেন্স ও সহকর্মীদের সহায়তায় তিনি কোম্পানিটির বোর্ড মেম্বার হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি মাত্র ৩৫ বছর বয়সে এই মর্যাদা লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি এই কোম্পানিতে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে যখন তিনি কোম্পানিটি ছেড়ে চলে আসেন তখন সেটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি কোম্পানি। তিনি জানালেন, ‘আমি যখনই যেই কোম্পানিতে কাজ করেছি সেই কোম্পানিই আমার ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয়েছে। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করা চেষ্টা করেছি। ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে আমি তত্কালীন একটেল-এ যোগ দিই চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার হিসেবে, একটেলের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে।’ মাইকেল কুনারের আমন্ত্রণে একটেলে এসে সেটিকে রবি হিসেবে প্রতিষ্ঠার কাজে তিনি তার টিম নিয়ে অনেক কষ্ট করেছেন। ভালোবাসা দিয়ে সবাই মিলে একটেল নামের নতুন একটি কোম্পানিকে দেশের অন্যতম সেরা কোম্পানিতে পরিণত করেছেন। তিনি রবির মাধ্যমে তরুণদেরকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন সবসময়। রবির মাধ্যমে তরুণদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার। সামান্য কিছু চাকরি দেওয়ার থেকে উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্র বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে রবি। তিনি জানালেন, রবি বিশ্বাস করে আনকম্প্রোমাইজ ইন্টেগরিটি, আই ক্যান আই উইল এবং সমস্ত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে কাস্টমার—এই তিন ভিত্তির উপর। এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে রবি। রবি কাস্টমারদের উল্লেখযোগ্য হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তাই রবি কাজ করে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের জন্য। তিনি নিজেও তার কাজের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন দেশের শ্রেষ্ঠ কোম্পানি হিসেবে রবিকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। অনেকগুলো স্বীকৃতি পেয়েছেন নিজের অসাধারণ ও ব্যতিক্রমধর্মী কাজের জন্য। ওয়ার্ল্ড এইচআরদের মধ্যে ‘৫০ মোস্ট ট্যালেন্টেড গ্লোবাল এইচআর লিডার ইন এশিয়া’ থেকে ‘বেস্ট এইচআর লিডার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন তিনি। ‘মাইলস্টোন অ্যাওয়ার্ড ফর এইচআর লিডারশিপ’ অর্জন করেন রবি আজিয়াটা গ্রুপের পক্ষ থেকে। বয়স যতই হোক এখনও কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের মতো, ভাবনা চিন্তায় তিনি এখন প্রজন্মের নব্য সদস্য। তিনি তার কাজে আরও সফলতা পান এবং তার নেতৃত্বে রবি হয়ে উঠুক দেশে সেরা একটি প্রতিষ্ঠান—প্রজন্মের পক্ষ থেকে তার এবং তার কোম্পানির প্রতি অনেক শুভকামনা রইল।