ইরানি গণিতবিদ মরিয়ম মির্জাখানি গণিত চর্চার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ফিল্ডস মেডেল’ পেয়েছেন। বিশ্বে এই প্রথম কোনো নারী গণিতের ‘নোবেল’ হিসেবে বিবেচিত এ পুরস্কার পেলেন। নতুন প্রজন্মের জন্য তার গল্প এবার তুলে ধরা হলো
এই সম্মাননাকে গণিতে নোবেল পুরস্কারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে গণিত চর্চার সর্বোচ্চ সম্মাননা ফিল্ডস মেডেলে ভূষিত হলেন ইরানি গণিতবিদ মরিয়ম মির্জাখানি। গত বুধবার আরও তিনজন গণিতবিদের সঙ্গে স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক এই নারীর নাম ঘোষণা করা হয় ফিল্ডস মেডেল বিজয়ী হিসেবে। ১৯৩৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কার এ পর্যন্ত পেয়েছেন ৫৬ জন গণিতবিদ। তাদের মধ্যে প্রথম নারী মরিয়ম মির্জাখানি। পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে অনুভূতি প্রকাশ করে মির্জাখানি বলেন, ‘এটি অনেক বড় সম্মান। আমি খুশি হবো এই পুরস্কার যদি কম বয়সী নারী বিজ্ঞানী ও গণিতবিদদের অনুপ্রাণিত করে। আমি নিশ্চিত সামনে আরও অনেক নারী এ ধরনের পুরস্কার লাভ করবেন।’ ইরানের রাজধানী তেহরানে জন্ম নেওয়া মির্জাখানি ডক্টরেট করার জন্য হার্ভার্ডে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানেই বসবাস করতেন। তবে গণিতবিদ নয়, কৈশোরে লেখক হতে চেয়েছিলেন তিনি। তার কথায়, প্রথমে তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে গাণিতিক সমস্যা সমাধানই অধিক আকর্ষণীয় মনে হয়েছে তার কাছে। প্রতি চার বছরে একবার দেওয়া হয় গণিতের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিকাল ইউনিয়ন এ পুরস্কার ঘোষণা করে। এদিকে ফিল্ডস মেডেল পাওয়ায় মরিয়ম মির্জাখানিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট জন হেনেসি। মির্জাখানির সঙ্গে ফিল্ডস মেডেল পাওয়া অপর তিন গণিতবিদ হলেন ব্রাজিলের আর্টার অ্যাভিলা, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় মানজুল ভারগাজা এবং অস্ট্রিয়ান মার্টিন হাইরার। ইরানি গণিতবিদ মরিয়ম মির্জাখানি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। জ্যামিতির জটিল বিষয়াবলি নিয়ে কাজের কারণে মির্জাখানি দীর্ঘদিন ধরেই গণিতবিদদের মাঝে আলোচিত হয়ে আসছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার আগে ইরানেই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিকাল ইউনিয়নের (আইএমইউ) একটি নির্বাচক কমিটি গণিতের নোবেল পুরস্কারখ্যাত ফিল্ডস মেডেল প্রদান করে থাকে। কানাডীয় গণিতবিদ জন ফিল্ডস এই পুরস্কার প্রবর্তন করেন। পদকের পাশাপাশি পুরস্কার বিজয়ীদের ১৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার প্রদান করা হয়। ১৯৩৬ সালে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতি চার বছর পর দুই থেকে চারজন গণিতবিদকে এই পদক দেওয়া হয়। ফিল্ডস মেডেলের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটা সব সময়ই ৪০ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সীদের দেওয়া হয়। প্রবর্তকেরা মনে করেন এতে এই বয়সেই গণিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিও মিলবে এবং ভবিষ্যতে আরও অর্জনের জন্যও তা উত্সাহ জোগাবে।
