প্রজন্ম অভিজ্ঞতা

ভূত বিষয়ক অভিজ্ঞতা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২০:১৩
যাপিত জীবনে আমরা নানা রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। এর মধ্যে কিছু কিছু অভিজ্ঞতার কথা কখনোই ভোলা যায় না। বিশেষ করে কারো জীবনে শিশুকাল ও কৈশোরে ভূত বিষয়ক কোনো ঘটনা ঘটলে তা পরবর্তী সময়েও মনকে নাড়া দেয় ভীতিকর হয়ে। আমাদের এবারের আয়োজনে তারকারা জানিয়েছেন তাদের জীবনের ভূত বিষয়ক কিছু অভিজ্ঞতার কথা মাতিয়া বানু শুকু নাট্যকার, নাট্য পরিচালক আমি ভূত বিশ্বাস না করলেও ভূত বিষয়ে আমার অনেক আগ্রহ। আমি বিভিন্ন মানুষের কাছে থেকে ভূতের গল্প শুনতে খুব পছন্দ করি। মানুষ যখন বিশ্বাস করে ভূতের গল্প বলে তখন তাদের ভূতের প্রতি বিশ্বাস দেখলে মনে হয় সত্যিই বোধহয় ভূত আছে। কিন্তু ছোট থেকেই আমার ভূতের প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই। এর প্রধান কারণ ছোটবেলাতেই আমার মা আমাকে বলেছিলেন ভূত বলতে আসলে কিছু নেই। বিশ্বাস না করলেও ভূত নিয়ে এত গল্প, এত আলোচনা দেখে আমি ভূত মনে মনে খুঁজি। ভূত নিয়ে নিজে মজার মজার গল্প লিখে নাটক তৈরি করি। আমার হাজবেন্ড আবার ভূতের ভয় পান। আমার তিন বাচ্চার মধ্যে বড়টি শহরে বড় হলেও কেন জানি ভূতের ভয় পায়। সবচেয়ে মজার হচ্ছে আমার মেজোটি ভূতের সাথে থাকে। সে মাঝে মাঝে একা একা কথা বলে। তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় কার সাথে কথা বলছিলে, তখন সে বলে ভূত এসেছিল তার সাথে গল্প করছিলাম। আমি ভূত নিয়ে অনেক কাজ করি, সেই কারণেই হয়তো ও একটি কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করেছে। ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০ বন্যা মির্জা অভিনেত্রী ভূত বিষয়টি আসলেই বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করে। কিন্তু আমি ভূতে বিশ্বাস করি না। আমি নিজেও ভূত চরিত্রে অভিনয় করেছি কারণ নাটকটি অনেক মজার ছিল। বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত ‘এলেবেলে’ নামে নাটকের কাহিনীটি ছিল কাল্পনিক একটি গল্প নিয়ে। আর কাল্পনিক যেকোনো বিষয় আমি বাস্তবে বিশ্বাস করি না। ভূতের বিষয়টি আমার কাছে রূপকথার মতো। রূপকথা যেমন কল্পনা, ভূতও তেমন কল্পনা। ছোটবেলা থেকেই ভূতের উপর আমার বিশ্বাস নেই। ভূত বিষয়ে মজার একটি ঘটনা আছে। একদিন আমি বাসার কাছে গাড়ি থেকে নেমে সামনের দিকে এগোতে এগোতে দেখি পাঞ্জাবি পরা বিশাল এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। দেখে আমি ভয় না পেয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলাম। পরে দেখা গেল সেখানে আসলে আলোর মাধ্যমে একটি প্রতিকৃতি তৈরি হয়েছে। আমি একজন যুক্তিবাদী মানুষ তাই ভূত বলতে আমার কাছে কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। ০০০০০০০০০০০০০০০ মেহরীন মাহমুদ গায়িকা, উপস্থাপিকা ভূত হলো আমার কাছে সুন্দর কোনো গল্পের অপর নাম। ভূত হলো কলাগাছের মাথায় চাঁদের হাসি। ভূত হলো চাঁদনী রাতে বাড়ির ছাদে ভাইবোনদের সাথে আড্ডার বিষয়বস্তু। ভূত হলো রাত এবং দিনকে আলাদা করতে পারার একটা মাধ্যম। ভূত হলো ছোটদেরকে ভালো-মন্দ বোঝানোর একটি চমত্কার মাধ্যম। ভূত শব্দটি থাকার কারণে আমাদের ইন্দ্রিয়তে ভয় নামক যে একটি বিষয় আছে তা বোঝা যায়। ভূত সরাসরি না দেখতে পেলেও ভূতের ভয় পেয়েছি। একবার খুলনা থেকে ঢাকার পথে একটি মোড়ের কথা শুনতে পেলাম, যে মোড়টিতে নাকি গাড়ির সামনে সাদা কাপড় দেখা যায় এবং গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়। আমরা যখন একটি মাইক্রো নিয়ে পথটি পার হচ্ছিলাম মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করেছিল। সেটি ভূতের ভয়, নাকি অন্য কোনো ভয় তা অবশ্য আমি নিশ্চিত নই। ০০০০০০০০০০০০ শাহজাদা বসুনিয়া জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ডাচ-বাংলা ব্যাংক আমার মনে হয় ভূত বলতে আসলে কিছু নেই। কিন্তু অতি প্রাচীনকাল থেকে মানুষের মধ্যে ভূত বিষয়টা আতঙ্কের সৃষ্টি করে। শেক্সপিয়ারের নাটক ‘হ্যামলেট’-সহ অনেক ভালো ভালো সাহিত্যে ভূত বিষয়টি তুলে আনা হয়েছে। মানুষ যদি অস্বাভাবিকভাবে মারা যায় তাহলেই তার আত্মা পৃথিবীতে ঘোরাঘুরি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। কিন্তু আমার কাছে এটিকে কল্পনাপ্রসূত ব্যাপার বলে মনে হয়। তবে বাংলাদেশি সংস্কৃতিতে ভূত বিষয়টি একটি স্থান দখল করে আছে। তাই ছোটবেলা থেকেই সকলের মধ্যে ভূত বিষয়টি নিয়ে ভয় কাজ করে। আমাদের বাবা-মাও ছোটবেলায় দুষ্টুমি করলে ভূতের কথা বলতেন এবং আমরা ভয় পেয়ে চুপ হয়ে যেতাম। আমরাও ভূতের ভয়ে রাতে টয়লেটে যেতেও ভয় পেতাম। তবে শিক্ষিত হওয়ার পর আমার ধারণা পরিবর্তন হয়েছে এবং ভূতের প্রতি এখন আর বিশ্বাস নেই। ০০০০০০০০০ বিউটি গায়িকা ক্লোজ-আপ ওয়ান তারকা ভূত বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভয়ের। ভূত নিয়ে কথা বলতেও অনেক সময় আমার ভয় লাগে। ভূত নিয়ে এই ভয়টা আমার ছোটবেলা থেকেই। ভয় প্রথম কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা মনে নেই কিন্তু ছোট থেকে ভূত শব্দটিই আমার কাছে ভয়ের আরেক প্রতিশব্দ। যখন ছোট ছিলাম আমাদের নানী-দাদিরা আমাদের সবাইকে নিয়ে ভূতের গল্প শোনাতেন। সবাই মিলে ভূতের গল্প শুনতাম এবং খুব ভয় পেতাম। সেইসব গল্প শুনেই মনে হয় ভূতের প্রতি ভয় তৈরি হয়েছে। এখন বড় হয়ে গেলেও ভূতের প্রতি আমার ভয় যায়নি। বাড়িতে আমি কখনও একা থাকতে পারি না। রাতে অন্ধকারে বিছানা থেকে নামতেও ভয় লাগে। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি আলো জ্বালিয়ে রাখতে বা পরিবারের কারো সাথে থাকতে। কেউ সাথে থাকলে ভয় একটু কম লাগে।