জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, রাজনীতি স্বচ্ছ ও অহিংস হওয়া প্রয়োজন। হিংসাত্মক মারমুখী তথা আক্রমণমূলক রাজনীতি আমাদের দেশে চলমান থাকায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হচ্ছে। জীবনমানের পরিবর্তনের জন্য আমাদের আয় বাড়াতে হবে। গতকাল রবিবার পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলায় দিনভর গণসংযোগকালে বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের আয় বাড়লে সরকারের আয় বাড়ে। গত ৪৩ বছরে বিশেষত আমার দেখা ৩০ বছরের দক্ষিণাঞ্চল তথা দেশে মানুষের জীবনে যে উন্নতি সাধিত হয়েছে তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নয়। তাদের সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করতে প্রভূত সম্পদ দরকার। আমাদের প্রত্যাশা সকলের জীবনমানের উন্নয়ন। গ্রামে রাস্তা-ঘাট, বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড করার উপযোগী পরিবেশ থাকা আমাদের প্রত্যাশা।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ তথা আমাদের উপলব্ধি হচ্ছে উন্নয়ন ক্ষেত্রে সঙ্গতির সীমাবদ্ধতা। দেশের ৮০/৮৫ ভাগ মানুষ দরিদ্র, যার মধ্যে আবার ৪০/৪৫ ভাগ হতদরিদ্র। মানুষের বার্ষিক গড় আয় মাত্র ১১শ’ ডলার অর্থাত্ ৮০ হাজার টাকা। তা আবার কোটিপতিদের আয়কে সমন্বয় করে এর সাথে দরিদ্র-হতদরিদ্র, নিম্নআয়-মধ্যআয়কারীদের গড়কে হিসাবে রেখে বার্ষিক আয় নির্ধারণ করা হয়। যা সাধারণ মানুষের গড় আয়ের প্রতিফলন নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, চুরি, আত্মসাতের কারণে প্রাপ্ত সম্পদের সদ্ব্যবহার করা যায় না। মুরগি চোরকে চোর বলা হলেও যারা বড় বড় প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাত্ করেন তাদের চোর না বলে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অভিযুক্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়। যা প্রকারান্তরে বড় বড় চুরিকে উত্সাহিত করে। যাতে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে।
ভাণ্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাপালিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধার সভাপতিত্বে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু প্রমুখ।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী গতকাল রাতে কাউখালী সদরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে তিনি বলেন, এককভাবে কোন উন্নয়ন করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে যেকোন কাজ সফল করা সম্ভব। ৯০ সাল পরবর্তী বাংলাদেশে কোন দলই এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়নি। জোট গঠন বা অন্যান্য দলের সমন্বয় সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে। ভাণ্ডারিয়া-কাউখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থেকেছে। সেই ৮৮ সালে বাবরি মসজিদ নিয়ে উপমহাদেশে তথা বাংলাদেশের কোথাও কোথাও দাঙ্গা দেখা দিলেও আমাদের প্রচেষ্টায় এখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। কাউখালী উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখর চন্দ দে এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সনজিত সাহা, সুনীল কুন্ড, অলোক কর্মকার ও আব্দুল লতিফ খসরু। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ইউএনও শহিদুল ইসলাম, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন, উপজেলা জেপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম তালুকদার প্রমুখ।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলার এলজিইডি’র বিভিন্ন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নির্মাণ প্রকল্পসমূহ হচ্ছে ভাণ্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাপালির হাট থেকে বোর্ড স্কুল নদমুলা ভায়া চিংগুড়িয়া বাজার পর্যন্ত সড়ক, কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঙ্গাশিয়া পর্যন্ত সড়ক, কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের নতুন বাজার-পাঙ্গাশিয়া সড়কের শংকরপুর-বেকুটিয়া সংযোগ সেতু এবং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের হোগলা-রঘুনাথপুর-সয়না-হুলারহাট সড়কের ধাবড়ী সাইক্লোন শেল্টারের সংযোগ সড়ক ও দক্ষিণ বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের নতুন ভবন।
মন্ত্রীর এই সফর কর্মসূচির সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, ইউএনও কাজী বজলুর রশীদ, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবির, ইউএনও শহীদুল ইসলাম, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভিটাবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, শিয়ালকাঠির ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, সয়না রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, মোঃ নজরুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা জেপি সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সম্পাদক শাহ আলম তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী গত শনিবার রাতে ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদেন। ভান্ডারিয়া ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশিদ-এর সভাপতিত্বে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান, ভান্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, নদমুলা-শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির বাবুল তালুকদার, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানভির হোসেন বাবু তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক মন্টু হাওলাদার, যুগ্ম আহবায়ক ফাইজুর রশিদ খসরু, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মন্মথ কুমার সাহা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভিন, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
