যাত্রীদের ভোগান্তির হাত থেকে বাঁচতে ঈদের আগে জেলার মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটার সংস্কার করা হলেও বেশি দিন টিকেনি। ঈদ শেষ হতেই মহাসড়ক পুরোনো চেহারায় ফিরে গেছে। খানা-খন্দ আর বড় বড় গর্তে ভরে গেছে মহাসড়ক। ২ সপ্তাহ মহাসড়ক ভাল থাকলেও গত বুধবার থেকে হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে তা পানিতে মিশে গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মস্তাননগর, ঠাকুরদীঘি, মিঠাছরা, মিরসরাই, বড়তাকিয়া, নিজামপুর, বড় দারোগারহাটে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলোতে ইট বিছিয়ে মাটি দিয়ে সমান করে দেয়া হলেও কয়দিন টিকবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে বৃষ্টিতে ঐ ইটগুলো ভেঙে তার সাথে মাটি মিশে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে কাঁদা। সংস্কারের ঘন্টাখানেকের মধ্যে বৃষ্টিতে তা পানির সাথে মিশে পুনরায় খানা-খন্দে পরিণত হচ্ছে। ফলে গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। গত শনি ও রবিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বিভিন্ন স্পটে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের সংস্কারের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। কিন্তু ঠিকই পুরনো চেহারাই ফিরে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। তবে শ্রমিকদের মহাসড়কে ইট বিছিয়ে মাটি দিয়ে লেভেল করে দিতে দেখা গেছে।
৪ লেন প্রকল্পের মিরসরাই অংশের প্রকৌশলী নীল কুমার সরকার জানান, ঈদের সময় মহাসড়কের গর্তগুলো সংস্কার করা হলেও গাড়ির অতিরিক্ত চাপ এবং বৃষ্টির কারণে বেশি দিন টিকেনি। বৃষ্টির কারণে এখন ইট আর মাটি দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করা হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে কংক্রিট আর বিটুমিন দিয়ে তা সংস্কার করা হবে। জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, মহাসড়কে মাত্রাতিরিক্ত গাড়ি চলাচল করার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংস্কার কাজ বেশি দিন টিকে না। এছাড়া বৃষ্টির পানি পড়ার সাথে সাথে বিটুমিন থেকে কংক্রিট আলাদা হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেন প্রকল্পের ধুমঘাট থেকে মিরসরাই অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেজা কনস্ট্রাকশনের প্রধান ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের দায়িত্বে থাকা ধুম থেকে মিরসরাই অংশ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটারের প্রায় ১৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এ অংশে গাড়ি চলাচল করছে। তবে বৃষ্টির কারণে বাকি ১ কিলোমিটারের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি বন্ধ হলে আশা করা যাচ্ছে ঈদ উল আযহার আগে আমরা কাজ শেষ করতে পারব। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪ লেন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক অরুণ আলো চাকমার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেন প্রকল্পের মিরসরাই থেকে বড় দারোগারহাট ১০ কিলোমিটার অংশের ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠান সিনো-হাইড্রোর কাজ এখনো অনেক বাকি। মিরসরাই, বড়তাকিয়া, হাদিফকিরহাট, নিজামপুর, বড় দারোগারহাট এলাকার অধিকাংশ অংশে মাটি ভরাট হলেও এখনো হয়নি কার্পেটিং। এ বিষয়ে জানতে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিনো-হাইড্রোর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে গতকাল রবিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মিরসরাই সদরে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টির কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪ লেন প্রকল্পের কাজ করতে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। মহাসড়ক ভাল থাকায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কোন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। কিন্তু বৃষ্টিতে মহাসড়কে কোথাও কোথাও খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সেটাও শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে।
