ফরমালিন নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ফরমালিন প্রতিরোধে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগে নগরবাসী তেমন একটা সাড়া দিচ্ছেন না। বছর দেড়েক আগে বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে নগরীর বড় তিনটি কাঁচাবাজারে ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। এজন্য ২৫ জন নারী পুলিশ সদস্যকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে তিন শিফটে ফরমালিন পরীক্ষার কাজ চলে। অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর যাত্রা শুরু হলেও জনগণ এই সেবা নেয়ার ব্যাপারে অনেকটা বিমুখ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে না।
বাজার থেকে মাছ-গোশত, শাক-সবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য কেনার পর তা পরীক্ষার ব্যবস্থা হাতের নাগালে থাকলেও ক্রেতারা ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্রের ধারে-কাছেও ঘেঁষেন না। কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সারাদিনই অলস সময় পার করতে দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে ক্রেতারা বলেন, ফরমালিন নিয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও বিশ্বস্ত দোকান থেকে মাছ, গোশত কিনলে প্রতারিত হওয়ার ভয় থাকে কম। তাই ফরমালিন পরীক্ষা করার জন্য তারা অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে চান না।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১৮টি কাঁচাবাজার রয়েছে। দেড় বছর আগে তিনটি বড় কাঁচাবাজারে (কাজীর দেউড়ি বাজার, চৌমুহনী কর্ণফুলী বাজার ও ষোলশহর কর্ণফুলী বাজার) ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্র চালু হয়। প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে এ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, বর্তমানে যার পরিচালন ব্যয় প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা। পরে নগরীর অন্যান্য বাজারেও ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে সেই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন। নগরীতে ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা আর বাড়েনি। অবশ্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিবিরহাট এলাকায় বিদেশি কারিগরি সহায়তায় একটি ফরমালিন পরীক্ষাগার নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে।
ফরমালিন পরীক্ষায় ক্রেতাদের অনাগ্রহের কারণ সম্পর্কে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ক্রেতাদের অসচেতনতাই মূল কারণ। বন্দরনগরীর মানুষ ফরমালিন নিয়ে আতঙ্কের কথা বলেন; কিন্তু বাজারে গিয়ে তারা আতঙ্কের কথা ভুলে যান। যেসব বাজারে ফরমালিন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেই ক্রেতারা সেখানে না গেলেই পারেন; কিন্তু তারপরও ওইসব বাজারে (পরীক্ষা কেন্দ্রহীন) ক্রেতার কমতি নেই। ব্যবসায়ীরাও এই সুযোগটা নিচ্ছেন। তারা দেখছেন, নগরীর তিনটি বাজারে ফরমালিন পরীক্ষা কেন্দ্র থাকলেও মানুষ এই সেবাটা নিচ্ছে না।
