উত্তরের ৬ জেলার সীমান্তে বিএসএফ মারমুখী

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০৪
উত্তরের জেলাগুলোর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফের আচরণ এখন মারমুখী। তাদের আচরণে উত্তরের সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার কৃষক ও পাথর শ্রমিক নিরাপত্তার অভাবে মাঠের কাজ এবং নদী থেকে পাথর উত্তোলনের সাহস পাচ্ছে না। বাংলাদেশি কৃষকরা সীমান্তের জমিতে চাষ, গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়াতে ও শ্রমিকরা নদীতে পাথর উত্তোলন করতে গেলেই বিএসএফ রাইফেল তাক করে গুলি করতে উদ্যত হয়। আবার কখনো কখনো গুলি করে হত্যার পর লাশ টেনে হিঁচড়ে ভারতীয় এলাকায় নিয়ে যায়। তারা পাল্টা বিজিবি’র কাছে অভিযোগ করে, ওরা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করে। গত এক বছরে উত্তরের ছয় জেলায় ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়। মানবাধিকারের রিপোর্ট অনুযায়ী গত ছয় বছরে গোটা সীমান্ত অঞ্চলে হত্যা করা হয় ৩৫৭ জন বাংলাদেশিকে। দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় চলছে এই আতঙ্ক। তবে ফুলবাড়ী সীমান্ত ব্যতিক্রম। বিজিবি এবং স্থানীয় অধিবাসী সূত্র জানায়, ৬ জেলায় সীমান্ত ঘেঁষা এবং গ্রামের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। অধিকাংশ এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের গ্রামগুলো খুব কাছাকাছি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মৌজার ভিত্তিতে ভাগ করা হয় গ্রামগুলোকে। এমনও এলাকা আছে যেখানে একই নামের অর্ধেক গ্রাম ভারতে আর অর্ধেক গ্রাম বাংলাদেশের মধ্যে পড়েছে। সে মৌজাগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়ের চিলাহাটি, নীলফামারী, ভোগডাবুডি, দিনাজপুরের হাড়িপুকুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী। ফলে দেশ বিভক্ত হলেও ওই সব গ্রামের মানুষের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। সর্বশেষ এ বছরের শুরুতে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া গত বছর এ জেলার ১২৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ১৪ জন। একই বছরে দিনাজপুর জেলায় নিহত হয় ১৮ জন। জেলার ৩৩২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে সদর উপজেলা সীমান্তে ৩ জন, বিরল সীমান্তে ২ জন, বিরামপুর সীমান্ত ও হাকিমপুর সীমান্তে ৩ জন করে এবং রাণীশংকৈল, হরিপুর, বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে ৫ জন করে কৃষক ও দিনমজুর বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায়। ওপারে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে ভারত। সেই সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষে তৈরী করা হয়েছে পাকা সড়ক। উল্লেখ্য, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের হাতে নিহত হয় ১৫ জন। সীমান্ত এলাকায় আগে পুশ-ইন পুশ ব্যাক ঘটনাকে কেন্দ করে বিএসএফ মারমুখী আচরণ করতো। এখন আবার শুরু হয়েছে জঙ্গি ঠেকানোর নামে একই ধরনের কর্মকাণ্ড। দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার পর থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে বিএসএফ বিশেষ করে ভারতের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার, দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর জেলা সংলগ্ন বাংলাদেশি এলাকার সীমান্ত সীল করে দিয়েছে। দিনাজপুরের ৪০ ব্যাটালিয়নের (ফুলবাড়ী) অধিনায়ক লে. কর্নেল এম. জাহিদুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে জানান, গত দুই বছরে এই ব্যাটালিয়নের অন্তর্গত ৮২ কিলোমিটার সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে কোন নিরীহ বাংলাদেশি হত্যা হয়নি। তিনি আরও জানান, বিএসএফ ও বিজিবি’র মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যই বিএসএফ নমনীয় হয়েছে। তিনি বলেন, মাসে অথবা ৩ মাস অন্তর বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা সত্ভাব, প্রীতি ফুটবল, ভলিবল ম্যাচসহ সীমান্ত সমপ্রীতি বজায় রাখলে সীমান্ত হত্যা বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এই উদ্দেশ নিয়েই ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হয়েছে।