আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদকে দিলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না। গতকাল সোমবার আইন কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার সপক্ষে বিচারপতি খায়রুল নানা যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সূতিকাগার ইংল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত গণতন্ত্রের সব দেশেই এটা আছে। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের অবস্থা উন্নত দেশগুলোর মতো না হওয়ার পরও বিচারক অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদকে দেয়া ঠিক হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসদকে এই ক্ষমতা দেয়ার সময় ওই সব দেশের অবস্থাও আমাদের মতই ছিল।
৫ জানুয়ারির মত ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের কাছে এ ক্ষমতা দেয়াটা কতটা যৌক্তিক- এমন প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি খায়রুল বলেন, ইলেকশন কমিশন বলেছে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনেও ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে কি-না সন্দেহ। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যে নির্বাচন হয়েছে, তা যেকোন নির্বাচনের চেয়েই ভুয়া। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বা যেকোন প্রতিষ্ঠান জনগণের প্রতিষ্ঠান। সব প্রতিষ্ঠানই জনগণের পয়সায় চলে। তাই সবারই জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমরা আমাদের সুপারিশে বলেছিলাম- কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারক যদি কোন অসদাচরণ করে থাকেন, তাহলে প্রয়োজনে এ বিষয়ে মূল সংবিধানে যে বিধান করা আছে তা ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। কারণ, পার্লামেন্ট আমাদের সার্বভৌম জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে। এ সময় আইন কমিশনের সদস্য সাবেক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির ও প্রফেসর এম. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।
