শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। পিতামাতা সন্তানকে যা প্রদান করেন তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে শিক্ষা। বিশ্বের খ্যাতিমান দার্শনিকরা শিক্ষাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। আলো যেমন অন্ধকারকে দূর করে তেমনি শিক্ষাও অজ্ঞানতাকে দূর করে। একটা দেশ বা সমাজ কতটুকু সভ্য তা নির্ণয়ের অনেক মাপকাঠি আছে। তবে সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হচ্ছে দেশের জাতীয় বাজেটে শিক্ষায় কতটা ব্যয় করে সেটা।
বর্তমান সময়টাকে বিজ্ঞানের যুগ বলা হয়। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার কমপিউটার, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, ফ্যাক্স ইত্যাদি। আজ আর কোনো মা-বাবাকে দূরে অবস্থানরত সন্তানের জন্য দিনের পর দিন চিঠি বা লোক মারফত সংবাদ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। মুহূর্তের মধ্যে বিজ্ঞানের কল্যাণে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তারা।
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে বিজ্ঞান শিক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষায় গুরুত্ব প্রদানের কারণেই ধনী দেশগুলো আজকের ধনী ও সমৃদ্ধশালী দেশের তালিকাভুক্ত হয়েছে। আমাদের অর্থনীতি প্রধানত আমদানিনির্ভর আর আমদানিনির্ভর অর্থনীতি কোনোদিন দরিদ্রতা দূর করতে পারে না। দেশকে ধনী দেশের তালিকাভুক্ত করতে হলে দেশকে রপ্তানীমুখী অর্থনীতিতে পরিণত করতে হবে। শুধু ধান-চাল আর শাকসবজির রপ্তানি নয় বরং এগুলোর সঙ্গে সঙ্গে কলকব্জা, মেশিনারিজ ইত্যাদি পণ্য উত্পাদন করে রফতানির চেষ্টা করতে হবে।
বিজ্ঞান শিক্ষার পিছনে ব্যয় করতে হবে জাতীয় শিক্ষা বাজেটের সিংহভাগ। শুধু শিক্ষা নয় বিজ্ঞান গবেষণায়ও সমধিক উত্সাহ দিতে হবে। মেধাবী বিজ্ঞানীরা যখন নব নব আবিষ্কার দ্বারা জাতিকে সমৃদ্ধ করবে তখন বিশ্বের বুকে জাতি হিসেবে আমাদের সম্মান বৃদ্ধি পাবে। অতএব সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে হলে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতেই হবে।
অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে নয় বরং অন্যকে সাহায্য দিয়ে বাঁচতে চাওয়ার মধ্যে মানব জীবনের সার্থকতা। এমন জীবন যাপন করতে হলে সবকিছুর আগে জাতিকে শিক্ষিত করতে হবে। শিক্ষার জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। শিক্ষিত মানুষদের সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষিত মানুষের সম্মান মানেই শিক্ষাকে সম্মান করা। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষদের সুযোগ-সুবিধা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে, তাঁরা যেন নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে পারে।
সাতক্ষীরা
