সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কি একেবারেই অসম্ভব

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৪
ঈদের আগে ও পরে যতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর কথা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঈদ করতে গিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া—এমন খবর মন মেনে নিতে চায় না। সিলেট রোডে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যাওয়া এসব কিছুকে দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। আমরা চাইলেই এগুলো রোধ করতে পারি। কিন্তু কীভাবে? তাহলে বলি—বাংলাদেশে অনেক সামাজিক সমস্যা ছিল যেগুলোর কোনোটাই এখন সমস্যা হিসেবে টিকে নেই। যেমন অ্যাসিড সন্ত্রাস, যৌতুক প্রথা, ইভ টিজিং এগুলো এক সময় ভয়ংকর রোগের মতো দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল—কিন্তু এখন নামমাত্র টিকে আছে। এটা সম্ভব হয়েছে সমস্যা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার মাধ্যমে। সড়ক দুর্ঘটনাও দীর্ঘদিন থেকে ঘটে আসছে কিন্তু এটা নিয়ে ব্যাপক আকারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়নি কখনো। পত্রপত্রিকা, টিভি চ্যানেলেও যদি মানুষকে ঘন ঘন সচেতন করা হয় এবং ড্রাইভারের লাইসেন্সের ব্যাপারে যদি একটু কড়াকড়ি আইন মানা হয় তাহলে আশা করি একদিন এই সমস্যাকেও আমরা জাদুঘরে পাঠাতে পারবো। পাশাপাশি আরেকটি উদ্যোগ নিলে সড়ক দুর্ঘটনা চিরতরে রোধ সম্ভব হবে বলে মনে করি। বাংলাদেশের মহাসড়কের আকার খুব বেশি বড় নয়। রুটও সীমিত। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকা থেকে সিলেট এরকম কয়েকটা বড় বড় রুট যদি নিরাপদ করা যায় তাহলে দুর্ঘটনা একেবারেই কমে যাবে। রুট নিরাপদ করতে হলে এই মহাসড়কগুলো একটু সংস্কার করতে হবে। রাস্তার পরিধি বাড়িয়ে দিয়ে রোড ডিভাইডার ব্যবহার করতে হবে। রাস্তাগুলো ওয়ানওয়ে করতে হবে। এতে সুবিধা হচ্ছে—মুখোমুখি সংঘর্ষ কখনোই ঘটবে না, রাস্তায় অহেতুক জ্যাম হবে না। ফলে ঈদের মতো বড় উত্সবের সময় বাড়ি ফিরতে মানুষ স্বস্তিতে থাকবে। হতে পারে রাস্তা বড় করে রোড ডিভাইডার বসাতে বড় ধরনের অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তাতে কী? প্রতি বছর যে হারে মানুষ মারা যায় সে তুলনায় বাজেট একটু বড় হলেও একেবারেই অসম্ভব কিছু নয়। এরকম হলে তারেক মাসুদ, মিশুক মুনির...সহ অনেক অনেক মানুষ এখনো বেঁচে থাকতেন আমাদের মাঝে। অবেলায় আর কাউকে হারাতে হতো না। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়