উপজেলার কৃষকরা আউশ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে সে অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে এবার আউশ ধানের চাষ হয়। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২১ হাজার ৬০৫ টন ধান।
এবার বর্ষা মৌসুমে ধানের ফলন বেশি হয়েছে। কিন্তু গতবারের চেয়ে বাজারে ধানের দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নতুন পারি জাতের ধান ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও পাঁচ ধান ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতবছর পারি জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা ও পাঁচ ধান বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। এবার ধান কাটার শুরুতে খরা থাকায় ধানের ক্ষতি হয়নি বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। উপজেলার কৈগাড়ী ও পেংহাজারকি গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান ও নিখিল চন্দ্র বলেন, বিভিন্ন সার, কীটনাশক এবং কৃষি উপকরণ সঠিক ভাবে আবাদী জমিতে প্রয়োগ করায় ফসলের পরিমাণ বেড়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে পারি জাতের ধানের ফলন হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ মণ, পাঁচ ধানের ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২০ মণ। কিন্তু বাজারে দাম নেই বলে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পৌর শহরের কচুগাড়ী মহল্যার কৃষক আব্দুল বারী বলেন, আমি ২৬ বিঘা জমিতে পাঁচ ধান রোপণ করেছি। ইতিমধ্যে ১০ বিঘা জমির ধান কাটা-মাড়াই করেছি। গতবারের চেয়ে এবার ধানের দাম নেই। প্রতিবিঘা জমিতে ২ হাজার টাকার লোকসান গুনছি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মুশিদুল হক বলেন, আউশ মৌসুমে কৃষকদের নন-ইউরিয়া সারের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ সুষম মাত্রায় সারের ব্যবহার করা হয়েছে। ল্যাগ পদ্ধতিতে ধান চাষ ও পোকা মাকড় দমনে কৃষি অফিস সতর্ক ছিল। বাজারে ধানের দাম কম পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
