পাক সেনাবাহিনীতে ‘হাই এলার্ট’

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৭
পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান ও পাকিস্তান আওয়ামী তাহরিক (পিএটি) পার্টির শীর্ষনেতা তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে রাজধানী ইসলামাবাদের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ‘রেড জোনে’ প্রবেশের চেষ্টা করায় সেনাবাহিনী ‘হাই এলার্ট’ জারি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দল দুটির হাজার হাজার সমর্থক ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রেড জোনে প্রবেশের কর্মসূচি পালন করতে যায়। এর আগে তারা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের জন্য দুই দফা আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত না করায় কঠোর কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিটিআই ও পিএটি। খবর বিবিসি, ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। গতকাল রাতে দুই নেতা নিজ নিজ সমর্থকদের নেতৃত্ব দিয়ে রেড জোনের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পর সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক হয়ে যায়। সমর্থকরা এই কর্মসূচিতে দারুণভাবে উজ্জীবিত ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। ইমরান খান সামনে থেকে মাঝে মাঝেই পেছনের জনতাকে সামনে এগিয়ে আসতে নির্দেশ দেন। তবে তিনি কুটনীতিপাড়ার কোনো ভবনে প্রবেশ না করতে তাদের আহ্বান জানান। ইমরান খান চিত্কার করে সরকারের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ইতিহাসই বলে দিবে জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় কি না। সময় থাকতে ভালোয় ভালোয় পদত্যাগ করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সমর্থকদের বলেন, তোমরা ভয় পেও না। আমি সামনে আছি, তোমরা কেবল আমাকে অনুসরণ কর। দেখি সরকারি বাহিনী আমাদের কি করতে পারে। পার্লামেন্ট ভবন এবং তার চারপাশের সমস্ত ভবন ঘিরে অবস্থান নিতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। তবে তারা যেন উশৃঙ্খল আচরণ না করে সে কথা বার বার মনে করিয়ে দিতে থাকেন ইমরান। জাতিকে তিনি জাগিয়ে তুলতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আজ সব পাকিস্তানি এক হয়েছে। দেখি সরকার যায় কোথায়। নওয়াজ শরিফের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেন সরকার শক্তি প্রয়োগ না করে। ইমরান বলেন, নওয়াজ আমি আপনাকে ক্ষমা করব না। আপনি যদি এবার লন্ডন পালিয়ে যান, তবু আমি আপনার পিছু ধাওয়া করে সেখানে পৌঁছে যাব। তিনি বলেন, আমাদের পিছে আজ হাজার হাজার মানুষ। আপনি মাত্র ৫০০ লোক জড়ো করে দেখান যে আপনার জনসমর্থন আছে। অন্যদিকে তাহিরুল কাদরিও তার সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে শান্তিপূর্ণভাবে রেড জোনে প্রবেশ কর্মসূচি পালন করেন। তিনি বলেন, আমি জঙ্গিপনা পছন্দ করি না, প্রচারও করি না। এই কর্মসূচি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধও নয়। তাই সহিংস আচরণ করা চলবে না। তার কথায় উজ্জীবিত সমর্থকরা শান্তিপূর্ণ ভাবে এগিয়ে চলে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রেড জোনে পার্লামেন্ট ভবন, সরকারি বিভিন্ন দফতর ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলো অবস্থিত। একারণে এ এলাকায় সাধারণ কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়না। এর আগে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে ‘হাই এলার্ট’ জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেনাবাহিনী আশঙ্কা করে পিটিআই ও পিএটির কর্মসূচিতে সহিংসতা হতে পারে। তাই লে. জে কামার বাজোয়া ইসলামাবাদে তার বাহিনীকে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলেন। তিনি তাদের জানিয়ে দেন, প্রয়োজন হলেও তাদের সবাইকে তলব করা হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সংবিধানের ২৪৫ ধারা প্রয়োগ করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে আগেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে একটি সূত্র জানায়, ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার নির্দেশ না দিলে সেনাবাহিনী তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশে ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তারা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে। সরকারি নির্দেশে বিক্ষোভ দমনে কাজ করবে না। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশও অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রেড জোনে অবস্থান নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রেড জোন পাকিস্তানের মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত। ওই এলাকায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ও বিদেশী কূটনীতিকরা অবস্থান করেন। তাই সেই এলাকার নিরাপত্তায় সরকার কোনো গাফিলতি করবে না। প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতমুখর এই পরিস্থিতি যত দ্রুত অবসান হবে পাকিস্তানের জন্য ততই মঙ্গল। কারণ, সেনাবাহিনী যদি রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ গ্রহণ করে তবে আবারো হুমকির মুখে পড়বে গণতন্ত্র। ২০১৩ সালের নির্বাচনে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে এমন দাবি করে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন ইমরান খান। তার সাথে যোগ দিয়েছেন তাহিরুল কাদরিও।