উপকূলীয় বনায়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনায় সহায়তা দেবে এডিবি

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৭
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সরকার গাছ লাগানোর যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিয়েছে তাতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সহায়তা দেবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে বৈঠকে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বিন্দু লোহানি এ আশ্বাস দেন। এডিবির ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, শুধু এডিবি নয়, বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদেশগুলোও সরকারের এ কাজে এগিয়ে আসবে। পরিবেশ মন্ত্রী এসময় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের যে ক্ষতি হচ্ছে তা থেকে রক্ষা পাবার জন্য সরকার ওই অঞ্চলে ব্যাপকহারে বনায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি বছরই নৌবাহিনী দিয়ে এ কাজ শুরু করা হবে। এর আগে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এডিবি প্রকাশিত ’এসেসিং দ্যা কষ্ট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড অ্যাডাপটেশন ইন সাউথ এশিয়া’ (জলবায়ুর ক্ষতি নির্ধারণ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অভিযোজন) শীর্ষক রিপোর্টের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদেরকে দক্ষতা বাড়াতে হবে। উন্নত, উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশ সবারই সমস্যা আছে। কিন্তু অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে কাজ করলে এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণ করা সহজ হবে।’ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে সমস্যা আছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমাদেরকে আগে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ খুব বড় সমস্যা নয়। উদ্যোগ নিয়ে সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প প্রণয়ন করলে অর্থ পাওয়া যায়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, তখন বিদ্যুত্ উত্পাদন হতো মাত্র সাড়ে সাতশ’ মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুত্ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে হয়েছে। অবশ্য এরপর থেকে আমরা ধীরে ধীরে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে পেরেছি। ১৯৯০ সালের দিকে এসে বিদ্যুত্ উত্পাদন আড়াই হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছে। তিনি বলেন, আমাদের ছোট দেশে জনসংখ্যা বিশাল। আল্লাহ আমাদের সহায় আছে। দেশ ছোট হলেও সম্পদ আছে অনেক। আমাদের কয়লা আছে। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় আমাদেরকে কয়লা উত্তোলন করতে দেয়া হয় না। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমাদেরকে শুধু জনপ্রিয়তার দিকে লক্ষ্য রাখলে চলবে না। সবার আগে কাজটা করে দেখাতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রচুর সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ যাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এ অর্থ ঠিকমতো খরচ হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং এর ব্যবস্থা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নেই। এখন অবশ্য কিছু কিছু প্রকল্পে আমরা মনিটরিং শুরু করেছি। উপকূলীয় অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের কারণে এ অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে আমাদের প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও নির্দেশনা রয়েছে।’ বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজে দাতাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আকারে ছোট বিশাল জনসংখ্যার এ দেশকে এগিয়ে নিতে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। তবে আশার কথা হলো এই, আগে দাতারা দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলতো এখন তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজনের কথা বলে। আলোচনায় অংশ নিয়ে এডিবির সফররত ভাইস-প্রেসিডেন্ট বিন্দু লোহানি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে ধারাবাহিকতা না থাকলেও বাংলাদেশ গড়ে ৬.২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে যা প্রশংসনীয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ অন্যতম। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর শত কোটি ডলার ব্যয় করছি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় যা পর্যাপ্ত নয়। অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, এডিবির প্রধান পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মাহফুজ আহমেদ, কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি উপস্থিত ছিলেন।