ইলিশ শূন্য সাগরে জাল ফেলেও নিরাপদে নেই জেলেরা। বৈরী আবহাওয়া সাগর যতোটা না উত্তাল তার চেয়েও বেশি উত্তাল জলদস্যুদের বেপরোয়া তাণ্ডবে। জলদস্যু জাহাঙ্গীর-ফরহাদ ও রাজু বাহিনী গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কয়েক দফা জেলেবহরে হানা দিয়ে অশান্ত করে তুলেছে বঙ্গোপসাগর। ৭টি ট্রলারসহ ওই বাহিনী দেড় শতাধিক জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে। লুটে নিয়েছে প্রায় কোটি টাকার আহরিত ইলিশ।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা, নারকেলবাড়িয়া ও বঙ্গোপসাগরের ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার পূর্বপাশে এ ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় গহীন সাগরে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে জেলেদের। অপহূত জেলেদের বাড়ি বাগেরহাট, শরণখোলা, পাথরঘাটা ও মহিপুর এলাকায়। কোস্টগার্ড, বনবিভাগ ও উপকূলীয় মত্স্যজীবী নেতা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জাতীয় মত্স্যজীবী সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর তালুকদার গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে জানান, তারা জেলেদের মাধ্যমে জানতে পান যে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জলদস্যু জাহাঙ্গীর ও ফরহাদ বাহিনীর ৫০ থেকে ৬০ জন দস্যু দফায় দফায় সুন্দরবনের নারকেলবাড়িয়া ও ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার পূর্বপাশে মাছ ধরার সময় জেলেবহরে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন এলাকার দেড় শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে। এসময় ওইসব এলাকায় বাগেরহাট, শরণখোলা, পাথরঘাটা ও মহিপুর এলাকার দেড় শতাধিক ট্রলার মাছ ধরায় নিয়োজিত ছিল। দস্যুরা প্রত্যেক ট্রলারের সমস্ত ইলিশ লুট করে নিয়ে গেছে। যার মূল্য এক থেকে দেড় কোটি টাকা।
বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে জানান, বঙ্গোপসাগরের ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার পূর্বপাশে পাথরঘাটা ও মহিপুর এলাকার ৫০টির মতো ট্রলার মাছ ধরায় নিয়োজিত ছিল। দস্যুরা এর মধ্য থেকে ইলিশ মাছ ও ৫টি ট্রলারসহ ৩৫-৪০ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। অপহূতদের মধ্যে ইউনুচ মাঝি ও কবির হোসেনের নাম জানতে পেরেছেন তিনি। বর্তমানে সাগরে অবস্থানরত জেলেরা দস্যু আতঙ্কে রয়েছেন বলে তিনি জানান। গতকাল মঙ্গলবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) অপহূত ট্রলার ও অন্য জেলেদের নাম জানতে পারেননি মত্স্যজীবী নেতারা। কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন পাথরঘাটার অপারেশন অফিসার আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ২টি ট্রলারসহ ৪ জেলে অপহরণের খবর শুনেছেন। এই জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল আহমেদ জানান, তিনি জেলেদের মাধ্যমে অপহরণের খবর জানতে পেরেছেন।
