চাকরি খোঁজার মাধ্যম

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৩
বাংলাদেশে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। চাকরির প্রতিযোগিতায় প্রতি বছরই প্রায় দুই লক্ষ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী প্রবেশ করে চলেছে। কিন্তু সেই সাথে চাকরি সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই। আগে যে পরিমাণ কাজ তিনজন ব্যক্তি করতো, এখন একজন ব্যক্তিকেই সেই পরিমাণ কাজ করতে হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চাকরির পদসংখ্যা কমছেই। কিন্তু তাই বলে যে আপনাকে হতাশ হতে হবে তা নয়। নিজেকে যোগ্য করে তুলুন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী। ক্যারিয়ার বিভাগে আমাদের কাছে প্রতিনিয়তই ফোন আসে অসংখ্য তরুণ-তরুণীর। কেউ কেউ হতাশাও ব্যক্ত করেন চাকরি না পেয়ে। হতাশা নয়, ধৈর্য সহকারে অর্জন করে নিন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি। আমাদের দেশে এখনও চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অনেকে শুধুমাত্র পত্রিকার উপর নির্ভর করে থাকে। কিন্তু পরিবর্তিত আধুনিকতার স্পর্শে চাকরি খুঁজতে হলে শুধুমাত্র পত্রিকার উপর নির্ভর না করে সেই সাথে নিজেকে মানিয়ে নিন বেশকিছু পদ্ধতির সাথে। জব সাইট কম্পিউটারায়নের এই যুগে সচেতন তরুণ-তরুণী মাত্রই কম্পিউটারভিত্তিক অনলাইন জবসাইটগুলো নিয়মিত ভিজিট করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে বাংলাদেশে এখন চাকরির অনেক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে থাকে অনলাইনভিত্তিক জব সাইটগুলোতে। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য থাকে কমমূল্যে যেন তাদের প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যায়। এক্ষেত্রে অনলাইন জবসাইটগুলো তাদেরকে পত্রিকার তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে থাকে, সেই সাথে অনলাইনের জব সাইটেও তাদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। আপনাকে চাকরি খুঁজে নিতে হলে নিজের আগ্রহেই চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুঁজে নিতে হবে। পরিচিত মাধ্যম আমাদের দেশে চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনেক সময়ই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঘোষণা করা হয় না। কেননা পদসংখ্যা কম থাকায় এবং আমাদের দেশে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে আগ্রহী হয়ে ওঠে না। তবে এই বিষয়টি কেবল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। তাই আপনার উচিত হবে আপনার পরিচিত ব্যক্তিবর্গ যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে একটি সিভি জমা রাখা। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হলে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত পদের বিপরীতে আপনাকে যোগ্য মনে করলে তারা অবশ্যই আপনাকে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য মনোনীত করবে। তবে এর মানে এই নয় যে, তারা আপনাকে চাকরির সুযোগ প্রদান করবে। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যেই হলো স্বল্পসংখ্যক লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন বেশি ঝামেলা পোহাতে না হয়। প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে মনোযোগী হউন আমাদের দেশে অনেকের মধ্যেই বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের চাকরিই তার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এখানে একটি বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে—বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তার পদের বিপরীতে যোগ্য বক্তিকেই মনোনয়ন দিয়ে থাকে। ফলে আপনাকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ করার সুযোগ রয়েছে তা পূর্ব থেকেই স্থির করে নিতে হবে। সেই সাথে সে সকল প্রতিষ্ঠানে আপনার কাঙ্ক্ষিত পদের বিপরীতে কী কী গুণাবলী প্রয়োজন হয়ে থাকে সেসব বিষয়ে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করে নিন। বাস্তবতা উপলব্ধি করুন অনেকেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানকর্তৃক প্রদেয় বিজ্ঞপ্তির সেরা পদসমূহে আবেদন করে থাকে। কিন্তু আপনি যদি সদ্য পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে চাকরির আবেদন করে থাকেন, তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে সেসব পদসমূহে আপনার চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি চাকরির জন্য আবেদন করে থাকে। ইন্টারভিউ লেটার পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার থেকে তারা অনেকাংশেই এগিয়ে থাকে। ফলে বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে মানিয়ে নিন এবং নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করে চাকরির আবেদন করুন। নিম্নযোগ্যতা সম্পন্ন পদে আবেদন করবেন না অনেকের মধ্যেই ধারণা রয়েছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত নিম্নযোগ্যতা সম্পন্ন পদে আবেদন করলে চাকরি নিশ্চিতভাবেই পাওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কেননা, ইন্টারভিউ কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আপনার বায়োডাটা পড়ে উপলব্ধি করে থাকে যে, এই পদের বিপরীতে আপনার যোগ্যতা আনেক বেশি এবং অল্প কিছুদিন কাজ করার পরই আপনি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে পারনে। ফলে তারা আপনাকে আপনার আবেদিত পদের জন্য মনোনীত নাও করতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ইন্টারভিউ বোর্ডে অনেকেই প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ এড়িয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যা উপস্থিত কর্মকর্তাদের নিকট কোনোমতেই কাম্য নয়। আপনার যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটাতে এখন থেকেই পরিকল্পনামাফিক কাজ শুরু করুন। পরিকল্পনার আলোকে অদূর ভবিষ্যতেই চাকরি নামক সোনার হরিণের পিছনে নিরন্তর ছুটে চলার অবসান ঘটবে নিঃসন্দেহে। পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে। ক্যারিয়ারে সফলতা বয়ে আনতে আপনার পরিকল্পনাই আপনাকে পৌঁছে দেবে সাফল্যের স্বর্ণদূয়ারে। কাজেই পরিকল্পনার ব্যাপারে সচেতন হোন।  শেখ সাদি