শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অনুমোদনের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগার স্থাপন। এক সময় শুধু বিজ্ঞান বিভাগ খোলার জন্য বিজ্ঞানাগার স্থাপনের শর্ত থাকলেও এখনকার সময়ে কলা,বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগেও পরীক্ষণ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয় আবশ্যিকভাবে অধ্যয়ন করতে হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরে সকল বিভাগের জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়টি আবশ্যিক বিষয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তুু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্নাতক পর্যায়ের একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনটিতেই বিজ্ঞান পরীক্ষাগার নেই অথবা থাকলেও কখনো খোলা হয় না পরীক্ষাগারের দরজা। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে শিক্ষার্থীরা পার হয়ে যাচ্ছে চূড়ান্ত পরীক্ষার লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা। এর ব্যতিক্রমও ঘটেছে—২০১৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চুনারুঘাট সরকারি (ডিগ্রি) কলেজের দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কৃতকার্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, চুনারুঘাট সরকারি কলেজের বিজ্ঞান পরীক্ষাগার কোথায় তা-ই কোনো শিক্ষার্থী জানেন না।
অন্যদিকে, চুনারুঘাটের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনোকালে পাঠাগার ছিল না। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনার আগে নিশ্চিত করতে হয় যে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে দুই হাজার বই এবং স্নাতক পর্যায়ের জন্য তিন হাজার বই সংবলিত পাঠাগার রয়েছে। স্নাতক সন্মান কোর্সের প্রতি বিষয়ের জন্য কেন্দ্রীয় পাঠাগার ছাড়াও বাড়তি দেড় হাজার বইয়ের সেমিনার কক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক। দেখা যায়, পাঠদান অনুমতির আগে ধার করে বই এনে পাঠাগার বা সেমিনার কক্ষ দেখানো হয়। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে বই আছে সেগুলো শোভা পায় অফিস কক্ষে নতুবা বদ্ধ গুদামে। বাণিজ্যিক ফায়দা হাসিলের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। প্রশ্ন হলো—পাঠাগার আর পরীক্ষাগার ছাড়া শিক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে কীভাবে?
আশরাফুল ইসলাম রাসেল,
চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ
