অর্থনৈতিক উন্নয়নে চার সূচকে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২৩:১৩
দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক সূচকে নিচের দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অঞ্চলের ২৮টি দেশের ওপর চালানো গবেষণার পর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩ থেকে ২৭ এর মধ্যে দেখানো হয়েছে। গতকাল বুধবার সফররত এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বিন্দু এন লোহানী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। প্রতিবেদনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন দ্রুত হচ্ছে। তবে প্রতিযোগীরা কী করছে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কয়েকটি ক্ষেত্রে উন্নতি করার কথা থাকলেও সময়মতো তা না হওয়াই পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২১ বছর আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র চার শতাংশের মধ্যে। ২০২১ সালের বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে। এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষা খাতে ২৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। বাংলাদেশের পেছনে আছে নেপাল, কম্ব্বোডিয়া ও পাকিস্তান। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। শিক্ষা খাতে দক্ষিণ এশিয়ার গড় মান ৪ দশমিক ৬৬। আর বাংলাদেশের সূচক মান ১ দশমিক ৭৫। মোট ১০ পয়েন্টে এই মান ধরা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় তথ্য প্রযুক্তি বা আইসিটি খাতে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩তম। বাংলাদেশের পরে আছে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার। এ খাতে দক্ষিণ এশিয়ার গড় মান ৪ দশমিক ২৮। আর বাংলাদেশের সূচক মান ১ দশমিক শূন্য ১। উদ্ভাবন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি- এই দুই খাতেই বাংলাদেশের অবস্থান ২৭তম এবং দুটি খাতেই বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে মিয়ানমার। উদ্ভাবন খাতে দক্ষিণ এশিয়ার গড় মান ৪ দশমিক ৫০। আর বাংলাদেশের মান ১ দশমিক ৬৯। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার গড় মান ৪ দশমিক ৩৯, আর বাংলাদেশের মান ১ দশমিক ৪৯। অর্থমন্ত্রী জানান, এডিবি বাংলাদেশে এসব খাতে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। সংস্থাটি এসব খাতে অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে আগ্রহী। প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত তার স্বার্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলবে। কারণ ভারত-বাংলাদেশের বিশাল সীমান্ত রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউ কারোর সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকে না বা থাকা যায় না, জনগণের সমর্থন লাগে। আওয়ামী লীগ দেশীয় শক্তিতেই ক্ষমতায় আছে। পরনির্ভরশীলতা বিএনপির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বলে তিনি মন্তব্য করেন ।