ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী গরু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও অল্প সময়ে অধিক মুনাফার আশায় তারা এদিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে। বাজারে প্রতি বস্তা গো-খাদ্যের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে।
পশু সম্পদ কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থানে গরু মোটাতাজাকরণের ট্যাবলেট খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়ার পর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা ও আশ-পাশের জেলাগুলোতে প্রচুর কোরবানির পশু পালন করা হয়। এই অঞ্চলে লালজাতের গরুর ব্যাপক হারে লালন পালন করা হয়ে থাকে। কোরবানির বাজারে এসব গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আবার অনেকেই ভারতীয় গরু কিনে ঈদুল আযহাতে বিক্রির জন্য পালন করে থাকেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ এলাকায় কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব এলাকার গৃহপালিত কোরবানির পশুকে ক্ষতিকর ট্যাবলেট খাওয়ায় না স্থানীয়রা। অল্প সময়ে বেশি লাভের আশায় কিছু লোক কোরবানির ২/৩ মাস আগে অসংখ্য গরু এনে মোটাতাজা করতে থাকে। তারা গরুকে অল্প সময়ের মধ্যে মোটা করতে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ট্যাবলেট খাওয়ান বলে পশু সম্পদ কর্মকর্তারা জানান।
জেলা পশু সম্পদ অফিস জানায়, পশু ও মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর ভারতীয় ও দেশীয় কোম্পানির তৈরি নানা ট্যাবলেট বাজারে পাওয়া যায়। এসব ট্যাবলেট চিকিত্সকের পরামর্শে স্বল্প সময়ের জন্য খাওয়ানো যায়। কিন্তু দীর্ঘসময় খাওয়ানো হলে এতে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এসব ট্যাবলেট খেলে অল্পদিনের মধ্যে পশুর শরীরে পানি চলে আসে এবং মোটা হয়ে দেখতে সুন্দর দেখায়। কিন্তু পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্ষতিসাধন করে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘গরুকে এসব ট্যাবলেট বেশি খাওয়ানো হলে কিডনি, লিভার নষ্ট হয়ে যায়। আর এসব পশুর মাংস খেলে মানুষও অসুস্থ হবে’।
গরু মোটাতাজাকরণে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ওষুধের ব্যবহার প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাই ইত্তেফাককে বলেন, ‘গরু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার তদারকিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আমরা জেলায় ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছি। তারা বিভিন্ন বাজার ও খামারে গিয়ে মনিটরিং করছেন।’
কয়েকজন খামারি জানান, এবার গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা বাণিজ্যিকভাবে গরু পালন করছেন তারা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। প্রতিটি গরুর পেছনে প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে। আবার বাজারে গো-খাদ্যও ভেজাল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, বাজারে বিভিন্ন প্রকারের গো-খাদ্যের দাম বস্তা প্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। গমের ভুসি প্রতি বস্তা (৩৫ কেজি) ৭৫০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকায়, মুগের ভুসি (৩৫ কেজি) ৮৫০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকায়, সয়াবিন খৈল (৫০ কেজি) ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, ধানের কুড়া (৫০ কেজি) ৭৬০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায়, ভুট্টা ভাঙ্গা (৫০ কেজি) ৮৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা ও মসুরের ভুসি (৩০ কেজি) ৫৩০ টাকা থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন হায়দার ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতি বছর কোরবানির ২/৩ মাস আগে থেকে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে গরুর লালন-পালনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়তে হয়। গো-খাদ্যের মধ্যে ভেজাল উপকরণ মেশানো হচ্ছে। এর ফলে গরু ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’
