বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর গর্ভবতী মহিলাদের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে। এই সীসার উত্স হচ্ছে ফসলী জমিতে ব্যবহূত বালাইনাশক কীটনাশক পদার্থ। সীসা এমন একটি মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ যা শিশুদের মস্তিকের বিকাশ রহিত করে। প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে শিশুদের বুদ্ধি ও স্বাভাবিক জ্ঞান লাভে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সীসা দূষণ পরিস্থিতি: একটি গবেষণা প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এর আয়োজক বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ এবং ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. স্টিভ লুবি। বক্তব্য রাখেন ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. নিতিশ চন্দ্র দেব নাথ, রোগ তত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্টের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ ও বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন।
অধ্যাপক ড. স্টিভ লুবি বলেন, সীসা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের হূিপন্ড ও মস্তিস্কের ক্ষতি করে। তিনি জানান, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের ৪৩০ জন গর্ভবতী মহিলার ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা গেছে ৪৬ ভাগ মহিলা এই মাত্রা অতিক্রম করেছে। যারা কীটনাশক ব্যবহার, টিনজাত খাবার ও চালের কলের চাল ব্যবহার করে তাদের রক্তে বেশি মাত্রা পাওয়া গেছে সীসা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার বাজারে বিক্রি হওয়া চালেও সীসার পরিমাণ বেশি। আমেরিকার পরিবেশ রক্ষা এজেন্সি কর্তৃক গ্রহণযোগ্য মাত্রার ৬ গুণ বেশি সীসা এই চালে রয়েছে।
অধ্যাপক লুবি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের সীসা দ্বারা সামগ্রিক বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়বে। তাই এখন থেকে এটি মোকাবেলায় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও তাদের এই গবেষণাটি অব্যাহত থাকবে এবং খাদ্যদ্রব্যে কিভাবে এই সীসা ঢুকে পড়ে তা অনুসন্ধান করা হবে।
অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, সীসা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। সীসার প্রভাবে মানবদেহে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অসুস্থ ও বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। এতে রক্ত শূন্যতা, কিডনি সমস্যা হতে পারে। তিনি বলেন, এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদেরকে এখনই সচেতন হতে হবে। কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি এজন্য কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাসহ একটি রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের আহ্বান জানান।
ডা. নীতিশ দেব নাথ বলেন, আমরা এখনই যদি সীসার কুফল সম্পর্কে সচেতন হই তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে জাতি রক্ষা পাবে। এজন্য সবচেয়ে আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। অধিক ফসলের আশায় বেশি পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার না করে বিকল্প পদ্ধতি বের করতে হবে।
