সুন্দর আগামীর জন্য সঞ্চয় অপরিহার্য। সুদিনের সঞ্চয়ই দুর্দিনের সহায়। ব্যক্তির সঞ্চয় যত বাড়বে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তাও ততই বাড়বে। তবে সঞ্চয় গড়ে তুলতে সবার আগে প্রয়োজন সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলা। এ মনোভাব যদি শিশুকাল থেকে গড়ে তোলা যায় তাহলে পরবর্তী জীবনে আর্থিক ভিত মজবুত ও ভবিষ্যত্ সুদৃঢ় হবে। পরবর্তী জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে ও শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ সহজ করতে স্কুল শিক্ষার্থীদের (১৮ বছরের নিচে) ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অল্প বয়স থেকে সঞ্চয়ের মনোভাব তৈরির এ প্রকল্প ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি জাতীয় জীবনের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসাবেই মনে করা হচ্ছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্কুল ব্যাংকিং করতে উত্সাহ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১০ সালে স্কুল ব্যাংকিং শুরু হয়। এর থেকে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলো অগ্রগতিও অর্জন করেছে। এ কার্যক্রমকে আরো স্বচ্ছ, সচেতনতামূলক ও গতিশীল করতে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতবছরের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রীন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নীতিমালায় হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বয়স, হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা, এর প্রকৃতি, হিসাবে ন্যূনতম জমা, সার্ভিস চার্জ, শিক্ষা বীমা, এটিএম কার্ডসহ অন্যান্য বিষয় যুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। ছয় থেকে আঠার বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী এ হিসাব খুলতে পারবে। আর হিসাব খুলতে কমপক্ষে একশ’ টাকা জমা দিতে হবে। এসব হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকগুলো এটিএম কার্ড (কেবল ডেবিট কার্ড) ইস্যু করতে পারবে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা তোলা যাবে। তবে অভিভাবকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। স্কুল ব্যাংকিং হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সরকারি ফি ব্যতীত অন্যকোন প্রকার সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে না। এ কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে বেতন ফি জমা দিতে পারবে। বৃত্তি বা উপবৃত্তির অর্থ জমা রাখতে পারবে।
চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৯টি ব্যাংকে রক্ষিত মোট হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা ছয় লাখ ৩৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যা চলতি বছরের মার্চের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাত্ দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে এ ব্যাংক হিসাব। অন্যদিকে এসব হিসাবে অর্থের পরিমাণও বাড়ছে। জুন মাস শেষে এসব হিসাবে স্থিতির পরিমাণ ৪০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। স্কুল ব্যাংকিং-এর হিসাবের মাধ্যমে শুধু টাকা সঞ্চয় হচ্ছে তাই নয়, শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে অভ্যস্ত হচ্ছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রযুক্তির সঙ্গেও হচ্ছে পরিচিত। শিক্ষার্থীরা এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারছে। তাদের বেতনের টাকাও একাউন্ট থেকে জমা দিতে পারছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এ তিন মাসে তিন হাজার ৫০৯টি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের ফি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে স্কুল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হলেও গ্রামীণ এলাকায় তা বাড়ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্কুল ব্যাংকিং-এর হিসাব থাকা ৪৯ ব্যাংকে যেসব হিসাব খোলা হয়েছে তার মধ্যে শহরেই বেশি হিসাব খোলা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকা পিছিয়ে রয়েছে।
