সেরাদের সেরা যারা

শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৭
শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলী জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মতিলাল চট্টোপাধ্যায় ও মাতা ভুবনমোহিনী দেবী। তার মাতুলালয় ছিল হালিশহরে। তার মাতামহ ভাগলপুরের কাছারিতে কেরানির কাজ করতেন। মতিলাল লেখাপড়া শিখেছিলেন, চাকরিও করতেন। সংসারে বারংবার অর্থকষ্ট ঘটায় তিনি কন্যা-পুত্র-পত্নীকে নিয়ে ভাগলপুরে শ্বশুরগোষ্ঠীর আশ্রয়ে গেলেন। সেখানে গিয়ে শরত্চন্দ্র তেজনারায়ণ জুবিলী কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৮৯৪ সালে এনট্রান্স পরীক্ষা পাস করে এফএ ক্লাসে ভর্তি হন। ১৮৯৬ সালে অর্থাভাবে পড়াশোনায় ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। শরত্চন্দ্রের সাহিত্য সাধনার হাতেখড়ি হলো ভাগলপুরে। তার অনেক গল্প, যা পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয়ে তার যশ বৃদ্ধি করেছে, তার খসড়া এই সময়েই লেখা। যেমন—চন্দ্রনাথ, দেবদাস। কলকাতা থেকে বার্মা (মায়ানমার) যাওয়ার কালে তিনি তার একটি গল্প ‘মন্দির’ কুন্তলীন পুরস্কারের জন্য দাখিল করে যান। গল্পটি প্রথম পুরস্কার পায় এবং কুন্তলীন পুস্তিকামালায় প্রকাশিত হয়। বার্মাতে তিনি সাহিত্যসাধনা চালিয়ে যেতে থাকেন। সেখানে লেখা ‘বড়দিদি’ গল্পটি ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি কলকাতায় বালিগঞ্জ অঞ্চলে বাড়ি করেছিলেন। কলকাতাতেই তাঁর জীবনাবসান হয়। চলচ্চিত্র তাঁর দেবদাস, পরিণীতা, বিরাজ বৌ, শ্রীকান্ত—উপন্যাস ৭টি নিয়ে চলচ্চিত্র হয়েছে। উপন্যাস বড়দিদি, বিরাজ বৌ, বিন্দুর ছেলে, পরিণীতা, মেজদিদি, বৈকুণ্ঠের উইল, পল্লীসমাজ, চন্দ্রনাথ প্রমুখ। নাটক ষোড়শী, রমা, বিরাজ বৌ, বিজয়া, প্রবন্ধ নারীর মূল্য, তরুণের বিদ্রোহ, স্বদেশ ও সাহিত্য, স্বরাজ সাধনায় নারী, শিক্ষার বিরোধ, স্মৃতিকথা, অভিনন্দনসহ আরও অনেক।