তিনি একজন তরুণ সামাজিক উদ্যোক্তা এবং অনুপ্রেরণাদানকারী বক্তা। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিচালনা করছেন নিজের প্রতিষ্ঠান ‘আস্পাইর কন্সালটিং’। এক নতুন দেশ গড়ার স্বপ্নে তরুণদের অনুপ্রাণিত করছেন প্রতিভাময়ী তরুণ। এই তরুণের নাম মো. সাদরুল আশরার।
তাকে নিয়ে লিখছেন আহসান রনি
দুষ্টু প্রকৃতির হলেও ছোটবেলায় বেশি মানুষের সামনে কথা বলার ব্যাপারে একটা ভয় ছিল, অনেক বেশি লজ্জা পেতেন। কিন্তু আজ কথা দিয়েই মানুষকে স্বপ্ন দেখান তিনি। পড়াশোনা করছেন ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কয়েক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতেন না । ভালো রেজাল্ট করাটাই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য। কিন্তু চতুর্থ সেমিস্টারে এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে অনেক কিছু জানতে পারলেন। মনে হলো এক্সট্রা কারিকুলারে জড়িত হওয়া দরকার। বরাবরই তার মাঝে নেতৃত্ব দেওয়ার একটা মনভাব ছিল। তাই চিন্তা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্লাবের সাধারণ সদস্য না হয়ে নিজে কিছু করলে কেমন হয়। তাই কয়েক বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে ‘মোটিভেশনাল ক্লাব’ নামে একটা ক্লাব খুলে ফেললেন। যার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনিই। সেই থেকে যাত্রা শুরু। এই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের নিয়ে কাজ করা, তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা। যেহেতু সাদরুলের স্বপ্ন হলো তরুণদেরকে অনুপ্রাণিত করা, তাই এই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে সাদরুলের স্বপ্নটাকে পৌঁছানো, কিন্তু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করা মুখের কথা নয়। শুরু হলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘোরাঘুরি। অনেক বাধার সম্মুখীন হলেন, কিন্তু কখনও থেমে যাননি। এভাবে অনেক দিন ঘোরাঘুরির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মোহাম্মদ শিবলি শাহরিয়ারের দিক-নির্দেশনায় নতুন একটি সংগঠন করলেন। নাম দিলেন ‘ইয়াং লিডারস অ্যাসোসিয়েশন’। এটার উদ্দেশ্য ছিল তরুণ নেতৃত্বকে খুঁজে বের করে অনুপ্রাণিত করা এবং দিক-নির্দেশনা দেওয়া। কিন্তু এখানেও অনেক বাঁধার সম্মুখীন হলেন। কিন্তু যতবার বাঁধা পেয়েছেন ততবার নতুন কিছু করার কথা ভেবেছেন। আর এভাবেই শুরু হলো ভিন্ন এক পথে জীবন খুঁজে নেওয়ার যাত্রা। কিছুদিন পর ইয়াং লিডারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় একটা প্রকল্প ‘২০০০ উদ্যোক্তা তৈরি’-এ অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয় তার। এই প্রকল্পের মাধ্যম দেশের দশটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে তার বক্তব্য পৌঁছানোর সুযোগ হয়েছে সাদরুলের। ধীরে ধীরে ছোট ছোট কাজ বড় হতে লাগল। সেখান থেকেই শুরু হলো তার জীবনের আরেকটি অধ্যায়। সাহস করে খুলে বসলেন নিজের কোম্পানি। যেহেতু স্বপ্ন তার অনেক বড় তাই বড় স্বপ্নের সাথে মিলিয়ে নাম দিলেন ‘আস্পায়ার কন্সালটিং’। মাত্র এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০টির বেশি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি এবং প্রায় ২০০০০-এর বেশি তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস যে একজন তরুণই পারে সমাজটাকে বদলে দিতে। বর্তমানে এই স্বপ্ন পূরণে তার কোম্পানিতে কাজ করছে ৫ জন মেধাবী তরুণ। তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণ বা ওয়েবসাইট বা ফটোগ্রাফি বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত এবং তার কোম্পানিকে প্রতিষ্ঠিত করে তোলার কাজ করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এত তরুণ বয়সে কীভাবে এসব কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি জানালেন, ‘সাধারণত একজন শিক্ষার্থীর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনা, কিন্তু এই প্রতিযোগিতামূলক সমাজে শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজে জড়িত থাকা। বিশেষ করে সেই এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমের সাথে, যেটা তাদের ভবিষ্যত্ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়বে।’ ছোট ছোট সফলতা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম দেখে তার বাবা-মা দুইজনই তাকে সবধরনের সহযোগিতা করছেন। তার মতে, জীবনে সফলতা অর্জন করার জন্য বাবা-মায়ের সহযোগিতা এবং দোয়া একান্ত প্রয়োজন। তরুণদের উদ্দেশে কিছু বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণরাই পারে দেশকে বদলে দিতে, তাই শুধু নিজে কী পাব, নিজের কী হবে এই চিন্তা না করে দেশ ও জাতিকে নিয়ে তাদের কর্মদক্ষতা অনুযায়ী ঝাপিয়ে পড়া উচিত। এখনই সময় দেশ বদলানোর, সমাজটাকে সুন্দর করার। তাই সময় নষ্ট না করে এসো দেশকে বদলাই। মানুষের জন্য কিছু করি।’
