একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেছেন, ‘প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জামায়াত-শিবির ঢুকে পড়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মধ্যেও জামায়াত ঢুকে পড়েছে। তারা বিচারকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনে যেসব পাকিস্তানপন্থি জামায়াতীরা ঢুকে পড়েছে, তাদের চিহ্নিত করে সারাদেশে স্থানীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রণালয়েও জামায়াত-শিবিরের দালাল ঢুকে পড়েছে। এজন্যই এখন পর্যন্ত জঙ্গিদের অর্থ সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, অব্যাহত ষড়যন্ত্র; মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, কারণ তাকে হত্যা না করলে ’৭২-এর সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলা যেত না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা যেত না। বুঝতে হবে এসব উদ্দেশ্যে কারা কাজ করেছে। তারাই বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্য নায়ক। বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করতে জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কমিশন গঠন করতে হবে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইএসআই ও সিআইএর ভূমিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। জাতিকে জানাতে হবে বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়ক কারা।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার তিনটি কারণ উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া, বাহাত্তরের সংবিধান বিলুপ্ত করা এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর অপচেষ্টা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। যার পেছনে যুদ্ধাপরাধীদের নিরাপত্তা দেয়া মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।’
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে যেমন তার আশেপাশে পাকিস্তানপন্থিরা ঘিরে ছিল, ঠিক তেমনি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশপাশে পাকিস্তানপন্থিরা ঘিরে রেখেছে। আরেকটি ১৫ আগস্ট দেখতে না চাইলে আমাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে।
রাবির সৈয়দ ইসমাঈল হোসন সিরাজী ভবনের গ্যালারিতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি রাবি শাখার আহ্বায়ক মতিউর রহমান মত্তুর্জার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
