শিক্ষাবিহীন জাতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো, কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষাই জাতিকে উন্নতির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। সে শিক্ষা হতে হবে মানসম্পন্ন।
উচ্চশিক্ষা কেবল উচ্চস্বপ্ন দেখাতে পারে অন্যথায় আমাদের উচ্চস্বপ্নের বাস্তবায়নও মুখ থুবড়ে পড়বে। আর সেই উচ্চশিক্ষাও সম্ভব হবে যখন আমরা আমাদের মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারবো। কোনো মেধাবীর মেধাকে কাজে লাগানোর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে তাকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ ফলাফল হলো জিপিএ-৫। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। যাতে এই সর্বোচ্চ ফলধারীর সংখ্যা ৭০ হাজার ৬০২ জন। তাদের সবার আজন্ম লালিত স্বপ্ন হচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (মেডিকেল কলেজসহ) সর্বমোট আসন সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার। এত সর্বোচ্চ ফলধারীর তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা অপ্রতুল। এদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আছে বড় কিছু হওয়ার; শুধু শিক্ষার্থী নয় অভিভাবকদেরও স্বপ্ন হচ্ছে তাঁদের সন্তান উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক। কিন্তুু সকল মেধাবীর স্বপ্ন কি বাস্তবে রূপ নেবে?
প্রকৃত মেধাবীরা তাদের মেধাকে কাজে লাগাবেই। কিন্তুু আসন না থাকলে তাদের স্বপ্নকে কীভাবে বাস্তবায়ন করবে? এটা এমন অবস্থা যে গাধার পিঠে তুলার বস্তা দিয়ে সাঁতরে নদী পার হতে বলার মতো। জলে নামলে যে তুলার ওজন বাড়বে সে কথা চিন্তা না করেই ভাবি আমার তুলার বস্তা ওইপারে যাবেই! আমাদের এ অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে তাহলে এদেশের মেধাবীরা হতাশায় ভুগবে, তাদের কেউ কেউ অন্য পথে পা বাড়াবে, নেমে আসবে দুর্বিষহ অন্ধকার। আমরা কি চাই না এই মেধাবীরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে আসুক? নাকি সারা জীবন আমরা আমাদের ফলাফলের অগ্রগতি জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়িয়ে এদেশের জনগণ ও বহির্বিশ্বকে দেখাবো? দেখাতে চাইবো আমরা শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত জাতিতে পরিণত হতে চলেছি? কিন্তুু একথা কি আমরা একটুও চিন্তা করবো না যে মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ করে দিতে পারছি না! এটা কি আমাদের ব্যর্থতা নয়? নাকি এ ব্যর্থতাকে আমরা অস্বীকার করবো?
আসন সংকট নতুন কোনো সমস্যা নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই আমাদের এই জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। এখন সময়ের দাবি—‘‘আসন সংখ্যা বাড়াও, মেধার বিস্ফোরণকে কাজে লাগাও’’। তাই সংকট উত্তরণের জন্য জনবহুল এই দেশে আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আরো অধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখবো তারা বৃত্তি দিয়ে অন্য দেশের বিপুল পরিমাণ মেধাবী শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমরা সেখানে নিজ দেশের মেধাবীদেরই ঠাঁই দিতে ব্যর্থ।
এঅবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মিলিত প্রয়াসই আমাদের এ সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আসন সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে মেধাবীদের আজন্ম লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
