বিএনপি মহানগর কমিটির কর্মকাণ্ড স্থবির

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৬
দল গুছিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নামার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার এক মাস পেরিয়ে গেছে। এই এক মাসের মধ্যে মহানগরীর প্রতিটি থানা এবং ওয়ার্ড কমিটি করে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহানগর কমিটি করার লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। পরে আহ্বায়ক কমিটির অনুরোধে বেগম জিয়া আরো দশ দিন সময় বাড়িয়ে দেন। কমিটি ঘোষণার পর কয়েকদিন কিছুটা দৃশ্যমান তত্পরতা থাকলেও এখন এই কমিটির সব কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। কোন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট কমিটি গঠনে অগ্রগতি নেই। আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। দলের কার্যালয়ে সোহেলের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে মির্জা আব্বাসের সমর্থকরা। এ নিয়ে ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে মহানগর কার্যালয়ে।গত মঙ্গলবার ১৯ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে সোহেলের ‘কুত্সা’ রটিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছে মির্জা আব্বাসের সমর্থকরা। বেগম খালেদা জিয়া দুই দফায় মির্জা আব্বাসকে ডেকে সতর্ক করলেও সোহেলকে নিয়ে দূরত্ব কমেনি বলে অভিযোগ করেছেন সোহেল সমর্থকরা। মহানগর আহ্বায়ক কমিটির এই সংঘাতময় পরিস্থিতির পটভূমিতে চেয়ারপার্সনের নির্দেশনায় রাজধানীর ১৫টি নির্বাচনী এলাকায় ১৫টি হাই প্রোফাইল কমিটি করা হয়। যাদেরকে থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের নিয়ে সম্মেলন করার দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে গত ১৭ আগস্ট কমিটি গঠনের জন্য বৈঠক ডেকে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদ। সেদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর এলাকার ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মতিঝিলের ৭৪, দিলকুশায় তার অফিস (দৈনিক দেশজনতা) ভাঙচুরও করে। মোহাম্মদপুর, আদাবর এলাকা থেকে বিগত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর ও ড্রাইভার কালাম মারপিটের শিকার হন। তারপর সেই ১৫ কমিটির কার্যক্রমও থেমে গেছে। জানা গেছে, বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে সাদেক হোসেন খোকা ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর কমিটি ব্যর্থ হয়েছে এমন অভিযোগে গত ১৮ জুলাই রাতে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে দলটি। এই কমিটি গঠনের পর থেকেই দেখা দেয় বিপত্তি। কমিটির অনেক সদস্য মনঃপুত না হওয়ায় মনক্ষুণ্ন হন নয়া কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। বিশেষ করে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব এবং খোকা-সালাম কমিটির প্রায় ৩৩ জনকে কমিটিতে স্থান দেয়ায় সঙ্কট ঘনীভূত হয়। কমিটি গঠনের পর কার্যালয়ে সদস্যদের নিয়ে বৈঠক না করা, কার্যক্রম শুরু না করা, মিডিয়ায় কথা না বলা, ভাসানী ভবনে সদস্য সচিবের কক্ষ দখল ও নিজ কক্ষে আহ্বায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে দলের হাইকমান্ড ক্ষুব্ধ হন। পরে বেগম জিয়া মির্জা আব্বাস এবং সোহেলকে ডেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘ঘোষিত কমিটিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। কেউ যদি কাজে বিঘ্ন ঘটায় তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ অত:পর ২২ জুলাই আনুষ্ঠানিক বৈঠক এবং ২৩ জুলাই মির্জা আব্বাস জিয়ার মাজার জিয়ারত করেন কমিটির সদস্যদের নিয়ে। এরপর থেকেই আবার নীরবতা। মাঝে দুইটি বৈঠক হলেও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি নেই । এদিকে কমিটি গঠনের পর থেকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মির্জা আব্বাস ও সোহেলের নজর কাড়তে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও এখন তা অনেকটা ভাটা পড়েছে। অকস্মাত্ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরগরম হয়ে ওঠে। পরে নেতাদের বিভক্তির কারণে কর্মীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাই এখন আর আগের মতো জমজমাট অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বিএনপি’র নয়াপল্টনের কার্যালয়ে। নতুন কমিটির নেতাদের মধ্যে এমন টানাপড়েনের মধ্যেও সংগঠনের নেতৃত্বে আসার জন্য লবিং, তদবির ও শোডাউন, দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন মহানগরের বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতারা। এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের মধ্যে কোন কোন্দল নেই। কমিটি তার কার্যক্রম যথাযথভাবে চালাচ্ছে। সব কিছু করতে একটু সময় লাগবে। বিএনপি অনেক বড় দল। সমস্যা নিয়েই আমাদের সামনে আগাতে হবে। তিনি বলেন, থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ চলছে। হাবিব-উন- নবী খান সোহেল বলেন, ব্যক্তি বড় নয়, দল বড়। দলের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন চলছে। আমরা দ্রুত আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।