পাকিস্তানে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাকিস্তান আওয়ামী তাহরিক (পিএটি) দল দু’টির দাবির সাথে একমত নন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে জানিয়ে দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। গতকাল লাহোরে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) কো-চেয়ারম্যান জারদারি। সেখানেই তিনি ঘোষণা দেন, পিটিআই নেতা ইমরান এবং পিএটি নেতা কাদরি যেসব দাবি করছেন সেগুলো অসাংবিধানিক। এসব দাবির সাথে তার দলের সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।
এদিকে, পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করতে শুক্রবার পিটিআই এমপিরা যে আবেদন জমা দিয়েছিলেন তা এখনো অনুমোদন করেননি জাতীয় পরিষদের স্পিকার। তিনি বলেছেন আবেদন জমা দেয়া নেতারা এখনো পার্লামেন্ট সদস্য। পদত্যাগপত্র জমা দিলেই তা সাথে সাথে গ্রহণ করা যায় না। অনেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আবেদন করা প্রত্যেক সদস্যের কাছে পৃথক পৃথক চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হবে তারা সত্যিই পদত্যাগ করতে আবেদন করেছেন কি না। নিশ্চিত হলেই কেবল সেগুলো চুড়ান্তভাবে গৃহীত হবে। এর মধ্যে যদি পদত্যাগে ইচ্ছুক এমপিরা সিদ্ধান্ত বদল করতে চান তাহলে আবেদন ফেরত দেয়া হবে। খবর ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
সূত্র জানায়, ইমরান ও কাদরির আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরী হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করতে জারদারিকে গতকাল মধ্যাহ্নভোজে দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। জারদারি তার দাওয়াতে সাড়া দিয়ে চলে যান লাহোরে নওয়াজের বাড়িতে। সেখানে জারদারির প্রিয় বিরিয়ানি ও কোরমা দিয়ে আপ্যায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তারা বৈঠকে বসে সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন।
বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী ইসহাক দর এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন আসিফ আলী জারদারি। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন গত বছরের নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি। সুতরাং এক বছর না যেতেই দেশকে আবার একটি নির্বাচনের দিকে ঠেলে দেয়ার আন্দোলন তিনি সমর্থন করেন না। তিনি সংবিধানের মর্যাদায় বিশ্বাস করেন। সংবিধানবিরোধী কোনো পদক্ষেপের সাথে জারদারি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা দলীয়ভাবে না থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তান সফর করতে ভয় পাচ্ছেন। এই আন্দোলনের কারণেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর প্রতিনিধি দল তাদের পরিকল্পিত সফরও বাতিল করেছে। এমতাবস্থায় সংবিধান অনুসরণ করে চলাই একমাত্র করণীয় বলে জারদারি মনে করেন।
