পড়াশুনার পাশাপাশি বাড়তি আয়ে অভ্যস্ত হলে যেমন আয়ের আনন্দ উপভোগ করা যায়, তেমনি অফিসিয়াল অভিজ্ঞতাও শানিত হয়। বর্তমান সময়ে নগরের নানামুখী কার্যক্রম দেয় পার্টটাইম জবের দারুণ সুযোগ। এজন নারী স্কুলের শেষ পর্যায় থেকে এই সুযোগ গ্রহণ করে নিজের হাত খরচতো বটে, অনেক সময় পড়ার বাড়তি খরচও চালাতে পারেন। ইডেন কলেজের সুমি নগরীর একটি অভিজাত ফ্যাশন হাউজে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন দুই বছর। আর সিটি কলেজের মৌমিতা আছেন ধানমন্ডির একটি বিউটি পার্লারে। সুমি বলেন, দুইবছর আগে বাড়ি থেকে পাঠানো টাকায় পড়াশুনা চালিয়ে নিতে কষ্ট হয় বলে সে এক বান্ধবীর মাধ্যমে এই কাজ পায়। তখন থেকে কাজ করে, আজ যেমন তার আয় বেড়েছে তেমন কথা-বার্তায়, চলা-ফেরায় অনেক বেশি সাবলীল হয়েছেন। যা পড়াশুনা করেও সে আয়ত্ত করতে পারেনি। সুমির মতে তার পড়াশুনায় একেতো ক্ষতি হয়ই না বরং বাড়তি আয়ে সহযোগিতা নিতে পারেন প্রাইভেট টিচারের। মৌমিতার মতে টাকার প্রয়োজন না থাকলেও নিজের আয়ের শিক্ষাটা প্রত্যেক মানুষেরই ছাত্রজীবন থেকে থাকা ভালো। নিজের টাকা আয়ের মধ্যে ব্যয়ের শিক্ষাটাও থাকে বলে মনে করেন তিনি। তাদের মতে এখন প্রতিদিনই ইভেন্ট ম্যনেজম্যান্ট, কর্মশালা, মেলা, প্রদর্শনী নতুন পণ্যের বাজারজাত অনুষ্ঠান, প্রচারণাসহ বিক্রয়কর্মীর কাজে আছে এমন আয়ের সুযোগ। যারা পার্টটাইম কাজ করতে চান তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি দিয়ে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক পাবেন। আবার বাণিজ্যমেলার মতো বড় আয়োজনে নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে থাকে কর্মী চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোও এক-দুই দিনের অনুষ্ঠানের জন্য লোক নেয়। এমন কাজ করতে চাইলে মানুষের সাথে সুন্দর করে কথা বলা, আন্তরিকতা, প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সম্পর্কে বলা, উপস্থিত বুদ্ধি ও নিজেকে পোশাক-আশাকে আত্মপ্রত্যয়ীভাবে উপস্থাপনাকে জোর দেন তারা। তারা বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকে পরিবারকে না জানিয়ে কাজ করে বলে সবসময় তাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। পরিবারেরও বোঝা উচিত তার বাড়তি চাহিদা মেটাতে পরিবারের মুখাপেক্ষী না হয়ে আয় করছে এতে দোষের কিছু নাই। তারা আরও বলেন, সমাজ আজ এমন আয়কে অনেকটাই গ্রহণ করতে শিখেছে। বাকি প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটানো নিজের বিষয়।
