ভিন্ন ভাবনায় এগিয়ে চলা

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২০:১২
নিজে কিছু করার মানসিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে চলেন তিনি। সেই চেষ্টা থেকেই অর্থ আদান-প্রদানের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানতে চেষ্টা করতে থাকেন। যুগ এগিয়ে যাচ্ছে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে ‘ফাস্টক্যাশ’-এর বিজনেস মডেল দাঁড় করিয়ে ফেলেন। তিনি সেজান সামস। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ফাস্টক্যাশের ব্যাংকিং পার্টনারদের ইস্যুকৃত কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা মানুষটিকে নিয়ে লিখেছেন আহসান রনি মানুষটি মনে করেন, সাফল্যের চাবিকাঠি হলো ধৈর্য। ব্যবসা বা চাকরি সবকিছুতেই পদে পদে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। সিঁড়ি বেয়ে চূড়ায় ওঠার সাফল্যে আর লিফটে উঠার সাফল্যের মধ্যে আত্মতৃপ্তির পার্থক্য অনেক। আর প্রতিটি সিঁড়ির ধাপ হচ্ছে জীবনের একেকটি অভিজ্ঞতা যা ব্যক্তিকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে বিচক্ষণ করে তোলে। তার কলেজজীবনে সময়ের কথা, তখন থেকে নিজ আগ্রহেই অবসর সময়টাতে দেশি-বিদেশি বিজনেস ম্যাগাজিন বই হাতের নাগালে পেলে পড়ে নিতেন। কেন জানি ব্যবসা বিষয়ক ম্যাগাজিন বইগুলো পড়তে খুবই ভালো লাগত তার। আর এজন্য তার সংগ্রহের তালিকায় বাছাইকৃত কিছু ম্যাগাজিন যেমন নিউজ উইক, টাইমস ইত্যাদি থাকত। সময়ের সাথে সাথে ব্যবসায়িক বিষয়গুলো জানা বা বোঝার আগ্রহ তার আরও বেড়ে যায়। ওইসব ম্যাগাজিন পড়তে গিয়ে যখন জানতে পারেন কারো ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা অথবা কঠিন সময় থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াসের গল্প তখন নিজের মধ্যেও একটি মানসিক তাড়না অনুভব করতেন। তখন থেকেই ব্যবসায়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল তার মনে। সেজানের পড়াশোনা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে। প্রথমে নর্থ সাউথে বিবিএ করে চলে যান অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। সেখানে ব্যবসায় প্রশাসনের উপর এমবিএ করেন এবং পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দেশে ফিরে আসেন। তিনি জানালেন, তার ব্যবসাজীবন শুরু হয় কুরিয়ার সার্ভিস দিয়ে। এই কুরিয়ার ব্যবসা করার সময় দেখেছেন যে দেশের অভ্যন্তরে মানি ট্রান্সফারের একটি বিশাল মার্কেট রয়েছে, বিষয়টি সেজানকে খুবই ভাবিয়ে তোলে। অর্থ আদান-প্রদানের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানার চেষ্টা শুরু করেন। যুগ এগিয়ে যাচ্ছে আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে ‘ফাস্টক্যাশ’-এর বিজনেস মডেল দাঁড় করেন ২০১১ সালের প্রথম দিকে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন এবং কাজ দুটোরই পরিধি দেশের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে, যারা আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ফাস্টক্যাশের ব্যাংকিং পার্টনারদের ইস্যুকৃত কার্ড পৌঁছে দেওয়া, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ আর্থিক লেনদেন করতে পারবে। যেমন কাউকে টাকা পাঠানো, প্রয়োজনের সময়ে যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বা এজেন্ট থেকে টাকা উঠানো, অনলাইনে বিল পরিশোধ এবং কেনাকাটা করা, দোকান ও রেস্টুরেন্টে কেনাকাটা বা বিল দেওয়া, বিদেশ থেকে টাকা পাওয়া, গার্মেন্টস ও কারখানার শ্রমিকদের বেতন পাওয়া ইত্যাদি আরও অনেক সুবিধা।’ সাফল্যে থেকে নিজেকে এখনও অনেক অনেক দূরে মনে করেন তিনি। কিন্তু তার ভালো লাগে যখন দেখেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদ্যোক্তারা তার কাছে আসে স্বপ্ন নিয়ে যে ফাস্টক্যাশের মাধ্যমে তারা হবেন স্বনির্ভর। সেজান বলেন, ‘নিজের কাজের সার্থকতা পাই কোনো গ্রাহককে অনলাইন বা এটিএমে ফাস্টক্যাশ কার্ড ব্যবহার করতে দেখলে, অথচ যে কিনা আগে কখনো জানত না ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কী।’ সেজানের মা সাধারণ গৃহিণী থেকে বুটিক শিল্পে একজন সার্থক উদ্যোক্তা হয়েছেন। যেখানে যেতে তার লেগেছিল প্রায় ১৫ বছরের মতো। মায়ের এই সাফল্যগাথাই সেজানের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট, যা তাকে উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রাণিত করেছে। শুধু তা-ই নয়, আকাঙ্ক্ষাকেও বাস্তবে রূপ দিতে সাহস জুগিয়েছে। তার স্বপ্ন সারা দেশে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা তৈরি, দেশের সব শ্রেণীর মানুষকে ফাস্টক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার আওতাধীন করা এবং সবার জন্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।