টেলিযোগাযোগ নীতিমালা সময়োপযোগী করতে হবে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৩
টেলিযোগাযোগ খাতের বিকাশ এবং এই খাতের প্রবৃদ্ধি আরো বাড়াতে টেলিযোগাযোগ নীতিমালা আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে হবে। দেড় দশক আগের নীতিমালাকে সংশোধন করে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের সহায়তায় তৈরি করা নীতিমালাকে দ্রুত অনুমোদন ও কার্যকর না করলে টেলিযোগাযোগ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত দিনব্যাপী এক কর্মশালায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা এসব আশঙ্কার কথা বলেন। টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক সংগঠন জিএসএমএ ও বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর প্রতিষ্ঠান অ্যামটব যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। জিএসএমএ-এর এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান আইরিন ইং বলেন, এ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে টেলিযোগাযোগ খাত অনেক অবদান রেখে চলেছে। কিন্তু মোবাইল ফোনের সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য আইনগত ও নীতিগত কাঠামো অনেক বেশি প্রয়োজন। মোবাইল ফোনের বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নীতির সংশোধন জরুরি। অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৯৮ সালে নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন খাত অনেক এগিয়েছে। কিন্তু তখনকার বাস্তবতার সঙ্গে এখনকার বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সে নীতিমালায় ভয়েস কল আর এসএমএসকে মাথায় রাখা হয়েছিল। আর এখন এর সঙ্গে অনেক কিছুই যোগ হয়েছ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, তথ্য, বিনোদন, সংবাদসেবাসহ নানা ধরনের মূল্য সংযোজিত সেবা যোগ হয়েছে। মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেবা খাতটির বিকাশ ও এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বক্তারা আরো বলেন, এ খাতে ‘অতিরিক্ত করের বোঝা’ এ খাতকে পিছিয়ে দিচ্ছে। সরকার রাজস্ব পেলেও দীর্ঘ মেয়াদে পুরো খাতের জন্য এটা ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তারা। খাতটি রক্ষা করার জন্য নীতি ও আইনগত স্থিতিশীলতা জরুরি। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, এ খাতের উন্নয়নে যা যা করা দরকার, তার সবই সরকার করবে। তিনি আরো বলেন, ‘সবকিছুরই ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহার আছে। তার পরও আমি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করি না। আত্মনিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করি।’ অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবীর বলেন, করের হার হওয়া উচিত সহযোগিতামূলক ও দীর্ঘমেয়াদি এবং নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরামর্শমূলক পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমি। কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব হুসনুল মাহমুদ খান, গ্রামীণফোনের সিইও বিবেক সুদ, বাংলালিংকের সিইও জিয়াদ সাতারা, রবির সিইও সুপন বীরাসিংহে, টেলিটকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, এয়ারটেলের সিইও রজনীশ কাউল, বেসিস সভাপতি শামীম আহমেদ প্রমুখ।