বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে ধ্বংস করতেই জিয়া পরিবার ও দলকে নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে। আমরা ২১ আগস্ট হামলার বিচার চাই। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছে, যা প্রতিহিংসা পরায়ণতা । মন্ত্রীদের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল, যা জাতি এবং বিচার ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি সমপ্রচারনীতি বাতিল ও তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনেরও দাবি জানান।
গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ছানাউল্লাহ মিয়া, হাবিব-উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ খুনের দল, মানুষের রক্তে তাদের হাত রঞ্জিত। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত শুধু বিএনপির ৩১০ জনকে তারা হত্যা করেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন আইন পাস করছে। প্রশাসন দলীয় করণের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করেছে।
তিনি বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঠিক বিচার আমরাও চাই। প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তারেক রহমানকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তত্কালীন বিএনপি সরকার এর সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা করেছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থা দিয়ে তদন্ত হয়েছে। তারা কিছু কাজ করতে পেরেছিলেন, কিছু পারেননি। এর কারণ তত্কালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ তাদের অসহযোগিতা করেছে। এমনকি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা করেনি।
ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ ৯ বছর সংগ্রাম করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে যে সমস্ত কথা বলা হচ্ছে তা দুঃখজনক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই যে এ ধরনের বক্তব্য আসছে তা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। আমরা ঘৃণা ভরে তা প্রত্যাখ্যান করছি।
জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে নির্বাচন দিতে আওয়ামী লীগের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের যদি এতোই জনপ্রিয়তা তবে নির্বাচন দেয় না কেন? বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে কেন এতো কৌশল অবলম্বন করছে। একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, এক এগারোর সরকার থাকা অবস্থায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তদন্ত হয়েছে। যদি তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতা থাকতো তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। কারণ ওই সরকারের সঙ্গে তো আর তারেক রহমানের বন্ধুত্ব ছিল না।
তারেক রহমানের মামলার আইনজীবী, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের প্রতিটি হত্যা মামলা রাজনৈতিকভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
