গতকাল রবিবার রাজধানীতে ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪: উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, এই নীতিমালা তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সমন্বয় না করেই সম্পন্ন করা হয়েছে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা। এছাড়া লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি সরকারের হাতে রাখা হয়েছে। তাতে রাজনৈতিক বিবেচনা গৃহীত হবে।
সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘আর্টিকেল-১৯’। অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট(ব্লাস্ট), বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট, ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টার, মিডিয়া ওয়াচ, নিজেরা করি ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ।
আর্টিকেল-১৯-এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তফা জব্বার, অধ্যাপক শফিউল আলম ভুঁইয়া, অধ্যাপক গোলাম রহমান, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশি কবীর, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারের (এমএমসি) পরিচালক কামরুল আহসান মঞ্জু প্রমুখ।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বলা যাবে না। তাহলে তারা যথেচ্ছাচার করে যাবে? তিনি বলেন, নীতিমালায় বলা হয়েছে, বন্ধুভাবাপন্ন দেশের বিরুদ্ধে বলা যাবে না। তাহলে ফেলানীদের হত্যা হলে কি আমরা চুপ করে থাকবো? এছাড়া লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি সরকারের হাতে রাখা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক বিবেচনা গ্রহণীয় হবে।
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, কমিটির মতামত নীতিমালায় সংযুক্ত করা হয়নি। নীতিমালায় চাকরি ও বিনিয়োগের সুরক্ষা থাকতে হবে। একটি স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতি থাকতে হবে।
মোস্তফা জব্বার বলেন, নীতিমালায় অনেকগুলো শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা নেই। যার জন্য আজকে বিতর্কের তৈরি হয়েছে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, নীতিমালায় ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণা পোষণ করা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয়ের সুনির্দিষ্ট বর্ণনা নেই।
কামরুল আহসান মঞ্জু বলেন, নীতিমালাকে আরো মিডিয়াবান্ধব করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে সরকারকে চাপ দিতে হবে।
আর্টিকেল-১৯ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, জনগণের বাক স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার সমুন্নত রেখে সম্প্রচারের দায়িত্বশীলতার জন্য স্বাধীন কমিশন গঠনের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষমতা থাকতে হবে। সম্প্রচার কমিশন কতোটা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হবে এটাই প্রশ্ন। তিনি সম্প্রচার কমিশনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও নীতিমালা করার প্রস্তাব করেন।
