উখিয়ায় বেপরোয়া রোহিঙ্গা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪২
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশ ঘেঁষে উখিয়ার কুতুপালং বনভূমির বস্তিতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ঈদকে সামনে রেখে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার এবং জমি-জমা দখলের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসাবে ব্যবহূত হওয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। জানা গেছে, ২০০৪ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে আটকা পড়ে প্রায় ১১ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক। ২০১০ সালে ৫০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা কুতুপালং বনভূমির পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে সেখানে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, ঈদকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ডাকাতদল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত কয়েকটি ঈদের মত এবারও তারা এলাকায় গরু চুরি, সড়কে ও বসত বাড়িতে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নাশকতামূলক তত্পরতায় সম্পৃক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি রাকিবুল্লাহ বলেন, সরকারি, বেসরকারি ত্রাণ না পাওয়ায় বস্তির অধিকাংশ রোহিঙ্গা পরিবারের ভরণ-পোষণে বিভিন্ন পেশায় জড়িত হচ্ছে। উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, বস্তির রোহিঙ্গাদের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা ক্যাম্প ইনচার্জের দায়িত্ব। তা না হলে রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে গ্রামবাসীর জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠবে। ক্যাম্প ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, বস্তির রোহিঙ্গাদের উপর সরকারিভাবে কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্প পুলিশ কাজ করছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এ.এস. থোয়াই জানান, কোরবানির ঈদে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য গরুর হাট-বাজারসহ প্রধান সড়কে অবৈধ রোহিঙ্গা ধরপাকড় অভিযান চালানো হবে।