পশ্চিমা বিশ্ব রুশ বা রাশিয়াকে চিরকালই শ্বেতভল্লুক বলেই ডাকে। বিশেষ করে সোভিয়েত যুগকে। সেই শ্বেতভল্লুকের প্রথম জাগরণ ঘটে বলসেভিক বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সময়। নেতৃত্বে ছিলেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। সেই বিপ্লবে উত্থান ঘটেছিল খেটে খাওয়া দরিদ্র শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণির। সাত দশক টিকেছিল সেই বিপ্লব। রাষ্ট্র ও সমাজের আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা মার্কিন নেতৃত্বে পঁুজিবাদী বিশ্বের প্রতিরোধের মুখে এবং জনগণের বড় অংশের পুঁজিবাদী সমাজের চাকচিক্যের মোহে ভেঙে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ধনতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা ঘটে। বিশাল সোভিয়েত সাম্রাজ্য ভেঙে যায়। জাতি-ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতির প্রশ্নে অসংখ্য ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। তার পরও রাশিয়া আজও বিশ্বের সর্ববৃহত্ দেশ, ভূভাগের হিসাবে। তেল-গ্যাসের মহাভান্ডার সঞ্চিত সেই দেশে। বিজ্ঞানপ্রযুক্তি, বিশেষ করে ভারী শিল্পের যন্ত্র নির্মাণ বা অধ্যাধুনিক সমরাস্ত্র নির্মাণে দেশটি মার্কিনের সমতুল্য।
দুজনই ভ্লাদিমির। একজন লেনিন, অন্যজন পুতিন। কিন্তু আদর্শে আকাশ-পাতাল। আশ্চর্য এটাই যে ইউএসএসআর, অর্থাত্ ইউনিয়ন অব সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকের যিনি ছিলেন সর্বশেষ কেজিবি, অর্থাত্ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, তিনিই কিনা আজ রাশিয়ার হর্তাকর্তা, বিধাতা। এটা ভুললে চলবে না যে ভ্লাদিমির পুতিন কিন্তু বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান মেধাবী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার স্মৃতিতে রয়েছে ভেঙে যাওয়ার পূর্বে অখণ্ড সোভিয়েত ইউনিয়ন। এশিয়া ও ইউরোপের ভূভাগ মিলে বিশাল দেশ। এই দেশের সমাজতন্ত্র পতনের মধ্য দিয়ে পুরাতন জারতন্ত্র, অর্থাত্ পুঁজিবাদে প্রত্যাবর্তনে তার ভূমিকা কী ছিল, এটাও একটি মৌল প্রশ্ন।
প্রাক্তন অঙ্গরাজ্য এবং বর্তমানে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র ইউক্রেন আক্রমণ এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দ্বারা লন্ডভন্ডের ভেতর ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন একটি নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে। সহজ অর্থ দাঁড়ায়, প্রয়োজনে যেন এ বিষয়ে তারা সতর্ক ও প্রস্ত্তত থাকে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্হিতিতে পরমাণু অস্ত্র যে ব্যবহার করা অসম্ভব, তা বিলক্ষণ জানেন পুতিন। উদ্দেশ্য, মার্কিন তো বটেই, অবশিষ্ট বিশ্বকে ভয় দেখানো। প্রতিপক্ষ ইউক্রেনকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। পুতিন জানেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করা সংগত নয়। তাই ইউক্রেনকে সহজে ও কম সময়ে নতি স্বীকার করানোই তার উদ্দেশ্য।
সীমান্তঘেঁষা ইউক্রেন রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর সেখানে মার্কিনি ও ন্যাটো তত্পরতা রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করে। নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত হয়। একটা প্রশ্ন অসংগত নয়, সারা বিশ্বের শক্তিধর পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো মিলে ন্যাটো কেন তৈরি হয়? একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ও চীনভীতি, অর্থাত্ কমিউনিজমভীতি থেকে আত্মরক্ষা। মহাশক্তিধর সোভিয়েতের পতনের পর কমিউনিস্ট মতাদর্শের যে পতন ঘটে, তার পরও কমিউনিস্টভীতির নামে ন্যাটোকে জিইয়ে রাখার কি আদৌ প্রয়োজন ছিল? অচিরেই প্রমাণিত হয়ে গেল, প্রাক্তন সমাজতান্ত্রিক অঞ্চল পূর্ব ইউরোপে আধিপত্য বিস্তারই ছিল মার্কিনি প্রকল্পের উদ্দেশ্য। তাই ন্যাটোর ক্ষয়ের বদলে মেদবৃদ্ধি ঘটানো হলো পূর্ব ইউরোপের সমাজতন্ত্র পরিত্যাগকারী দেশগুলোকে ন্যাটোর ভেতর লেপটে দেওয়ার প্রকল্পে। সংগত কারণেই রাশিয়ার নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। ইউক্রেনে মার্কিনি মতাদর্শের বিস্তার রুশদের উসকে দেয় দেশটিকে জব্দ করার প্রেরণা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিসাবটাই ছিল গোলমেলে। তাদের প্রথম মহাপ্রকল্প সফল হয়েছিল সোভিয়েতের পতনের সঙ্গে সঙ্গে। তারা ভেবেছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব থেকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটবে এবং সঙ্গে সঙ্গে মহাপতন ঘটবে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদর্শের। কিন্তু তাদের হিসাবে ছিল না, একদিন না একদিন পতিত সমাজতন্ত্রের দেশে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী পুঁজিবাদী রুশ সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটবে। এটাও হিসাবে ছিল না, রুশদের রয়েছে বিশাল তেলসম্পদ। সাইবেরিয়ার বিশাল অরণ্য আর তৃণভূমির তলায় নিদ্রিত রয়েছে যে দানবীয় তেল আর গ্যাসের অফুরন্ত ভান্ডার, তার হিসাবটা মার্কিনিদের ছিল না। রাশিয়া যে সারা বিশ্বের অর্ধেক তেল একাই উত্পাদন করে তা সারা ইউরোপে পাইপলাইনের মাধ্যমে সাপ্লাই করে, বিষয়টা তলিয়ে দেখেনি। তবে একটা বিষয়ে মার্কিন বা ইঙ্গ-মার্কিন বলয় স্পষ্ট জানে যে জ্বালানি তেল উত্পাদনকারী সৌদি-ইরাক বা মধ্যপ্রাচ্য আর তেল উত্পাদনকারী রাশিয়া যে এক নয়। ভেঙে যাওয়ার পরও রাশিয়া ভূখণ্ডগতভাবে তো বটেই, অস্ত্রশক্তিতে এবং অর্থবলেও মহাশক্তি। রাশিয়া তো বটেই, সঙ্গে মহাচীনের মহাউত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত প্রভাব ফেলছে। এটাও সত্য যে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে চীন পক্ষ নিয়েছে রাশিয়ার। হয়তো তার স্বপ্নের ভেতরে রয়েছে বিপ্লবের সময় বিছিন্ন হয়ে যাওয়া তাইওয়ান। মাও সে তুংয়ের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী বাহিনী চীনের মূল ভূখণ্ড দখল নিলে জাতীয়বাদী চিয়াং কাইসেকের বাহিনী আশ্রয় দেয় সমুদ্রদ্বীপ তাইওয়ানে। সেই বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে বলপূর্বক দখলের তক্কে তক্কে আছে চীন। যুদ্ধ বাধলে সংগতভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ নেবে তাইওয়ানের। সে ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন খুবই দরকার চীনের। সেই হিসাবটায় পড়েই চীন চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছে।
চীন আর রাশিয়ার নব-উত্থানে পিছু হটছে মার্কিনি শক্তি। অন্যদিকে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র বিদায় নিলেও পুঁজিবাদের লাগামহীন দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেলেও স্বপ্নের সেই অব দ্য পিপল-বাই দ্য পিপলের গণতন্ত্র আজও বহু দূরে। তাই ভ্লাদিমির পুতিন দেশের জনগণের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মতামতের তোয়াক্কা করেন না। জনগণের সমর্থন আছে কি নেই এই যুদ্ধে, সে বিষয়ে ভাবিত নন। অন্যদিকে পুতিনের বিশ্বাস, পাশ্চিমা বিশ্ব থেকে যতই তার বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক অবরোধের হইচই শোনা যাক, তা হালে পানি পাবে না।
আমেরিকা যে আর পূর্বের আমেরিকায় নেই, তার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। রাষ্ট্রটির দুর্বলতা আজ স্পষ্ট। আফগানিস্তানের দিকে তাকানো যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি জটিল পরিস্হিতির চাপে, বিপুল অর্থব্যয়ে আমেরিকা দিশেহারা হয়ে পড়ে। বাধ্য হয় আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনাবাহিনীকে দেশে ফিরিয়ে নিতে। ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হয় সেই তালেবানদের হাতে, যাদের হটিয়ে নিজেরা ক্ষমতা দখল করেছিল। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! অন্যদিকে মিত্রশক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন চলমান সময়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের ভেতরে বহু দেশ অর্থনৈতিক সংকটে পতিত। এর ফলে তাদের নির্ভরতা বেড়েছে রাশিয়ার প্রতি। মস্কোর বিপুল তেল-গ্যাস এবং সম্পদের প্রাচুর্য পূর্ব-পশ্চিম দুই ইউরোপকেই নমনীয় হতে বাধ্য করেছে। আমাদের সন্দেহ হয়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার বিরুদ্ধে সফল হয় কি না। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী চীন যদি রাশিয়ার প্রতিপক্ষ হতো, তবে এর সম্ভাবনা ছিল। ইউরোপ তো ইউক্রেনকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আমেরিকাও ঠিক তাই।
ভ্লাদিমির পুতিনের কী স্বপ্ন আমরা তা জানি না। তিনি কি ভেঙে পড়া পুরাতন সোভিয়েত ইউনিয়নের স্বপ্নে তাড়িত? ভাঙা অংশের পুনরায় একত্রীকরণের স্বপ্ন দেখেন? ক্রিমিয়া দখল করে যার প্রমাণ রেখেছেন? এমন স্বপ্ন একেবারেই সফল হওয়ার নয়। সামজতন্ত্র তো দূর অস্ত, পুঁুজিবাদী সোভিয়েত ইউনিয়নও বিশ্বে আর জন্ম নেবে না। রাশিয়ার সবচেয়ে প্রয়োজন এখন (ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ) পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের অনুশীলন। গণতন্ত্রের (পুঁজিবাদী) চর্চা কোনোকালেই রাশিয়ায় ঘটেনি। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পূর্বে জার শাসিত দেশটি ছিল প্রায় সামন্ততান্ত্রিক। সেই সময়ে ‘গণতন্ত্র’ ছিল সাধারণ মানুষের কাছে অচেনা একটি শব্দ। বিপ্লবের পরে বুর্জোয়া গণতন্ত্র চর্চা তো ছিল কল্পনার অতীত। যা কিছু চর্চা হয়েছিল, তার নাম ‘জনগণতন্ত্র’। কিন্তু যে জাতির ঐতিহ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভ্যাস নেই, হঠাৎ সেই জাতি চর্চাকে এক দিনে সফলতায় নিয়ে যাবে এমন আশা করা যায় না।
একদিন না একদিন রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে। রুশ আক্রমণে নগর কংকালে পরিণত করা দেশ পলাতকেরা শরণার্থী নামের কলঙ্কিত বোঝা কাঁধে নিয়ে হাঁটবে। লাখ লাখ মানুষের কাফেলা কোথায় যে যাত্রা শেষ করবে, তা কেউ জানে না। চলমান শতাব্দীর নতুন এক সংকট এই দেশহারা, ঘরহারা শরণার্থী জনতা। বাঙালি শরণার্থী দেখেছিল সাতচল্লিশের দেশভাগের সময়। পুনরায় দেখেছে একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের কালে। এশিয়া দেখেছে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়। দেখেছে দীর্ঘস্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধকালে। ফিলিস্তিনি, ইয়েমেনি, ইরাকি আর সিরিয়ান শরণার্থীদের যাত্রা আজও শেষ হয়নি। শেষ কি হয়েছে চীনা আগ্রাসনে পতিত তিব্বতি শরণার্থীদের পথ চলা? কাশ্মীরি শরণার্থীরা কবে ফিরবে স্বদেশভূমে? এবার নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে ইউক্রেনীয় শরণার্থী। শরণার্থী বিশ্ব আর অপর বিশ্ব, দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে মানবসভ্যতা। শরণার্থীদের জীবন বাস্তবতার বহির্জগতের কথা জানে বিশ্বমানব, জানে কি আন্তর্জগতের সংবাদ? রাষ্ট্র বিতাড়িত রাষ্ট্রহীনের মনোলোকের অসীম যন্ত্রণা, অন্ধকার মহাশূন্যতার যন্ত্রণা, নিরাশ্রয় পথ চলায় আতঙ্কিত পদযাত্রা কোন আজানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাদের?
রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারবাদ এখন প্রশ্নের মুখে। বলা হয়, ঠান্ডা যুদ্ধের যুগের অবসান হয়েছে। আরো বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির যুগাবসান ঘটেছে। আদৌ কি সত্য? প্রকৃতপক্ষে সময় বদলাচ্ছে। পুরাতন রাজনীতিটা টিকে আছে অবশ্যই, কিন্তু অন্যরূপে। একসময় মানুষ বিশ্বাস করত সমাজতন্ত্রের পতন ঘটেছে। এবার যুদ্ধহীন বিশ্বে মহাশান্িত নেমে আসবে। এলো কি?
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনকে তুচ্ছ ভাবা যাবে না। অবশ্যই এটি বিশ্ব রাজনীতির গভীর সংকট। রাশিয়ার উত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মার্কিন উত্থানের কথা। প্রথম আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা না হয় বাদই গেল। মার্কিন উত্থান এবং সারা বিশ্বের দেশে দেশে সামরিক অভু্যত্থান ঘটিয়ে অনুগত পুতুল সরকার গড়ার মহাপ্রকল্প তো ইতিহাসের অংশ। জনপ্রিয় দেশনেতাদের হত্যার যে পরিকল্পনা, তা কি ভুলে যাওয়ার বিষয়? লাতিন আমেরিকাসহ অসংখ্য দেশে নিজেদের সেনা ঘাঁটি গড়া তো তুচ্ছ বিষয় নয়। সেই মার্কিন শক্তি দুর্বল হচ্ছে। নব-উত্থান ঘটছে অগ্নিমুখ চীনা ড্রাগনের প্রচণ্ড ঠান্ডায় শ্বেত তুষারে পা ফেলে ছুটে বেড়ানো অতিকায় শ্বেতভালুকের।
রাজনীতির সত্য ন্যায় নৈতিকতার প্রশ্ন দুর্বল হচ্ছে। গণতন্ত্রকে আজ আর চেনা যায় না। দেশে দেশে, সমাজে সমাজে এসব আদর্শবাদ পদদলিত হচ্ছে। ন্যায়ের পৃথিবী নির্মাণের প্রকল্পটি অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের চরিত্র বদল করে রূপ দেওয়া হচ্ছে স্বৈরতন্ত্রের। রুশ-চীনের উত্থান সেই পথেই। প্রায় প্রতিটি দেশের ক্ষমতা আর রাজনীতি রূপান্তর ঘটছে স্বৈরতন্ত্রে। এখানেই মনবতার মহাসংকট। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধই হোক চাই যে কোনো সংঘাতের ইন্ধনশক্তি ঐ বাহুবলী ক্ষমতার রাজনীতি। তাই বিশ্বকে অবাক বিস্ময়ে দেখতে হচ্ছে রুশ শ্বেতভালুকের উত্থানকে।
লেখক: উপন্যাসিক
