ফরিদুর রেজা সাগর
ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সঙ্গে কাজ করার সময় হুমায়ূন আহমেদ টেলিভিশনের জন্য অনেক রকম কাজ করতেন। এ সময় তিনি কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। সে বিজ্ঞাপন চিত্রগুলোর ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য।
হুমায়ূন আহমেদ নিজেই তাঁর বিভিন্ন নাটকের চরিত্র নিয়ে এই বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি করেছিলেন।
‘সবুজ সাথী’ নাটকের জন্য হুমায়ূন আহমেদ গাজীপুরের যে বাড়িটি শিল্পী ও ক্রুদের থাকার জন্য নিয়েছিলেন সে বাড়িওয়ালার সাথে কথা ছিল ১৫ দিন পর ছেড়ে দেওয়ার। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শুটিংয়ে বিঘ্ন হওয়ায় দু-দিন বেশি শুটিং করতে হয় হুমায়ূন আহমেদকে। এই দু-দিনের জন্য বাড়ি দেওয়ার ব্যাপারে বাড়িওয়ালা যথেষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেন। সংবাদিক শুনে হুমায়ূন আহমেদ প্রচণ্ড বিরক্ত হন এবং খুব সম্ভবত সেই সময়েই ঠিক করেন শুটিং করার জন্য তাঁর নিজের একটি জায়গা প্রয়োজন। হুমায়ূন আহমেদের সেই উপলব্ধি থেকেই শুরু হয় ‘নুহাশপল্লী’ তৈরির কাজ। আজ দেশের সবচেয়ে বড় শুটিংপল্লী এটি। আর হুমায়ূন আহমেদ তাঁর নিজের নাটকে নুহাপল্লীকে কতভাবে উপস্থাপন করেছেন সেকথা দর্শকের জানা।
হুমায়ূন আহমেদ তাঁর নাটকে যেমন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সুযোগ দিয়েছে তেমনি অনেক নতুন শিল্পীও দর্শকের জন্য উপহার দিয়েছেন। নতুন শিল্পীদের সঙ্গে তিনি অনেক সময় কথা বলতেন ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অফিসে বসে। সেই সময় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের কাছে দুটো খাবার দোকান ছিল। বহু পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘ক্যাপিটাল কনফেকশনারি’। আর অন্যটি মুরগি ভাজার দোকান ‘ইউরো হাট’। ইউরো হাটে গরম ভাজা মুরগি হুমায়ূন আহমেদের ইউনিটের সবার পছন্দ। সে হিসেবে প্রায়ই তাঁরা খাওয়া-দাওয়া করতেন।
নাটক তৈরির জন্য আরেক নির্মাতা নিয়মিত ইমপ্রেসে আসতেন। তিনি ফেরদৌস হাসান। তিনি হুমায়ূন আহমেদের ইউনিটে এই মুরগি ভাজা খাওয়া দেখে প্রায়ই অফিসে ঢুকে বলতেন, ‘এই কে আছে, হুমায়ূন স্যারের জন্য মুরগি আনো, আর আমার জন্য মুড়ি।’
লেখক :বরেণ্য শিশুসাহিত্যিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
