হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে কাজ করছেন ববি

কাঁধে নিয়েছেন ২২ শিশুর দায়িত্ব

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২২, ০৭:২৮

এবার বইমেলায় এসেছে এইচ এ ববির কবিতা সংকলন ‘ত্রি’। ববি হিজড়া জনগোষ্ঠী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন,‘ত্রি’ দিয়ে আমি ত্রিসঙ্গমী—তিনটি সত্ত্বার মিলন, ত্রিনয়নী— তিনটি দৃষ্টি দিয়ে দেখা এবং তৃতীয় লিঙ্গের ত্রি বোঝাতে চেয়েছি। তিনি জানান, এটি তার প্রথম কবিতা সংকলন। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ববি ১৯৯৬ সাল থেকে হোসেন আমির বাবু নামে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রবন্ধ কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে লেখালেখির সঙ্গে জড়িত হন।

এখন এমন একটা সময় চলছে যখন নিশ্চিত ভবিষ্যত্ কিংবা কেরিয়ার গড়তে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পাড়ি জমান। দেশের বাইরে গিয়ে পড়াশুনা করে সেখানেই থেকে যান। আর ববি দেশে ফিরেছেন সমাজকর্ম করতে। তার এই কাজকে উত্সাহিত করতে নারী দিবসে জাতিসংঘ ঢাকা বিশেষ এক ‘ইনস্পায়ারিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে। এর আগেও তিনি কিছু পুরস্কার পান। তার কাজের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে সাংবাদিকতা করার অভিজ্ঞতাও আছে। তিনি জানান, নিজের কোন সন্তান নেই বলে কাঁধে নিয়েছেন ২২ শিশুর দায়িত্ব। এই শিশুদের বেশির ভাগই বাবা-মা পরিত্যক্ত কিংবা বাবা-মা নেই।

কথা হচ্ছিল তার নিকেতনের ফ্ল্যাটে। তিনি জানান কবিতা তার ভীষণ ভালোলাগার জায়গা। আমরা পথে বেড়িয়ে ঠোঁটে লিপস্টিক, চোখে কাজল পরা যে হিজড়া দেখি সাহাঘ্য চেয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় তাদের সঙ্গে তার আকাশ জমিন পার্থক্য। কবিতা আর হিজরা মেলে না কোনভাবে—এর নেপথ্য নিয়ে তিনি বলেন,‘কবিতা আমার অস্হিরচিত্তে স্হিরতা আনে। অশান্ত মনকে শান্ত করতে বারবার ফিরে যাই রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে শুরু করে সুনীল, শীর্ষেন্দু, সমরেশ, বাণী বসুর কাছে। দেশ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একটি কবিতা উত্সবে দাওয়াত করে চিঠি লিখেছিলেন তাকে। অপার সেই স্নেহের কথা জানান কৃতজ্ঞচিত্তে। হাসোজ্জ্বল ববি জানান, এমন মানুষের সান্নিধ্য তাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধেছে সাহিত্যের আঙিনায়।

বই প্রকাশ উপলক্ষ্যে কি দেশে ফেরা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশে ফেরার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম নিজের জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে কাজ করা। তার মধ্যে বইমেলায় বই প্রকাশ একটা বাড়তি পাওয়া। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তেমন কোন কিছু না বলে তিনি জানান, আমাদের প্রত্যেকের পেছনের গল্পটা এক।

১৯৮৯ সালে শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া যান ববি। এখন তিনি ইউনাইটেড নেশন ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বলেন, আমাকে খুব কষ্ট দেয় যখন শক্তি সামর্থ্য থাকার পরও একজন লোককে হাত পাততে দেখি। আমাদের জনগোষ্ঠীর মানুষরা আজও এই কাজটাকে গুরুত্ব দিয়ে করছে। আমি তাদের এখান থেকে বের করে আনতে চাই। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাদের কাজের জায়গাটা তৈরি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন