৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলার প্রধান আকর্ষণ যা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ১৬:১২

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পাঁচশত বছরের ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর মেলা জমে উঠেছে। প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় উপজেলার গোপীনাথপুরে এই মেলা বসে।

করোনার কারণে গত দুই বছর মেলা বন্ধ থাকলেও এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা বসেছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়ার মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগিতার ঘোড়া ক্রয়-বিক্রয় হয় এই মেলায়। ঘোড়ার দৌড় দেখার জন্য উৎসুক জনতা মেলায় ভিড় জমায়। তাছাড়া গরু, মহিষ ক্রয়-বিক্রয় চলে মেলা শুরু হওয়ার পাঁচদিন পর্যন্ত।

মেলা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ মেলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- গরু-মহিষ ও ঘোড়া কেনা-বেচা। কাঠের আসবাবপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র পাওয়া যায় এই মেলায়। মেলা প্রায় মাসব্যাপী চলে। তবে এবার মেলায় বিনোদনমূলক যাত্রা, সার্কাসের অনুমোদন দেয়নি প্রশাসন। মেলায় দুই থেকে চার কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টান্ন পাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে আসা কম্বল ব্যবসায়ী রিপন হোসেন জানান, করোনার কারণে গত দুই বছর এই মেলায় আসতে পারিনি। এবার আশা করছি- ব্যবসা ভালো হবে।

বিক্রির জন্য নিয়ে আসা মহিশ।

মেলায় ঘোড়া কিনতে আসা ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার আব্দুল মজিদ জানান, প্রতি বছর এই মেলার অপেক্ষায় থাকি। একটি ঘোড়ার দাম দুই লাখ টাকা বলারও পরও কিনতে পারিনি। তবে এবার ঘোড়া কিনেই বাড়ি ফিরবো।

এবার একটি ঘোড়ার সর্বোচ্চ দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। ঘোড়াটির মালিক মজিবর রহমান জানান, ‘ঘোড়াটি ভারতীয় তাজি ঘোড়া। এর বয়স সাড়ে চার বছর। এটি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, গোপীনাথপুর মেলাটি ৫১৩ বছর ধরে চলছে। এটি অন্যতম প্রাচীনতম মেলা।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, এই মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। এর সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশি টহল চলমান আছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম হাবিবুল হাসান জানান, এই মেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক টিম কাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য বিনোদনমূলক যাত্রা, সার্কাসের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

ইত্তেফাক/ইউবি