তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংলগ্ন শেখপাড়া এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে ইবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঝিনাইদহ থেকে একটি বাসে করে কুষ্টিয়ায় ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় জিনিসপত্র রাখা নিয়ে বাস কন্ডাকটরের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় তাদের। এ বিষয়টি ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে শেখপাড়া এলাকায় বাসটি আসা মাত্র তা আটকে দেয় ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীরা। পরে ঐ কন্ডাকটর পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়লে তাকে দোকান থেকে বের করতে যান শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের সাথে দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সাথে দোকানী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ শুরু হয়।
এসময় স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে অন্তত ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এবং স্থানীয়রা ইবি'র লালন শাহ হলের পকেট গেটে অবস্থান নেয়। এতে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ইবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানোর জন্য লোকজন জড়ো করে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, কথা কাটাকাটির জেরে শিক্ষার্থীরা তাদের দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এতে কয়েকজন দোকানদার আহত হয়েছেন ও দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘন্টাব্যাপী কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে রাত ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসে দোকান মালিক সমিতি ও স্থানীয়রা।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাত দেড়টা পর্যন্ত স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এখন উভয় পক্ষ শান্ত রয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা মোকাবেলায় আমরা সচেষ্ট আছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং প্রক্টরিয়াল বডি এ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর সাথে আলোচনায় বসা হয়েছে। আমরা চাইনা এধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটুক।
