রাশিয়ার গ্যাসের মূল্য রুবলে পরিশোধে যে প্রভাব পড়বে

রাশিয়া যদি তার গ্যাসের মূল্য রুবলে পায়, সেক্ষেত্রে দেশটি পশ্চিমাদের দেওয়া বেশ কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটাতে পারবে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২২, ০৫:৫৬

বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদক রাশিয়া শিগগিরই তাদের বিবেচনায় ‘অবন্ধু’ দেশগুলোর কাছে রপ্তানি করা জ্বালানির মূল্য নিজেদের মুদ্রা রুবলে নিতে যাচ্ছে। বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারি কর্মকর্তাদেরকে রাশিয়ার মুদ্রায় মূল্য পরিশোধের উপায় বের করতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি গ্যাজপ্রমকেও এ নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মস্কোর নতুন এ পদক্ষেপে মূলত দেশটির গ্যাসের ক্রেতা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোই বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছে। ইউরোপ তার গ্যাসের ৪০ শতাংশই নেয় রাশিয়ার কাছ থেকে। এ জ্বালানি বাবদ তাদের প্রতিদিন ২০ থেকে ৮০ কোটি ইউরো মূল্য পরিশোধ করতে হয়; এতদিন তারা তা ইউরো বা ডলারে দিয়ে আসছিল। ইউক্রেনে গত মাসে রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এরই মধ্যে মস্কোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে; ইউরোপীয় ইউনিয়নও মস্কোর ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। এর পালটা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়া গ্যাসের মূল্য রুবলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া যদি তার গ্যাসের মূল্য রুবলে পায়, সেক্ষেত্রে দেশটি পশ্চিমাদের দেওয়া বেশকিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটাতে পারবে।

নরওয়েভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য মতে, রাশিয়ার গ্যাস কেনার প্রায় সব চুক্তিতেই মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে এতদিন পর্যন্ত ডলার বা ইউরোরই প্রাধান্য ছিল। নতুন ঘোষণা কার্যকর হলে এই প্রাধান্য কমে যাবে। মস্কো তাদের ভাষায় ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযান’ শুরু করার পর পশ্চিমাদের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার তোড়ে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের মান ডলারের বিপরীতে ৮৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। তবে কয়েক দিন পর থেকেই রুবল একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করে। সর্বশেষ বুধবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘোষণার পর মুদ্রাটির মানের ব্যাপক উল্লম্ফন দেখা যায়।

আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন যেসব চুক্তি আছে সেগুলোর শর্ত একপাক্ষিকভাবে বদলে ফেলার ক্ষমতা রাশিয়ার আছে বলে তারা মনে করছেন না। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবসার পরামর্শদাতা সুসান সাকমার বলছেন, ‘এই দাবি কতটা জোরালো তা স্পষ্ট নয়।’ বুধবার যেভাবে রুবল-ডলার বিনিময়ে ঊর্ধ্বগতি এবং ইউরোপে পাইকারি গ্যাস মূল্যে উল্লম্ফন দেখা গেছে সম্ভবত সেটাই পুতিনের উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন সাকমার। সব চ্যালেঞ্জ টপকে রাশিয়া যদি সফলভাবে মূল্য পরিশোধের মুদ্রায় আনা বদল বহাল রাখতে পারে, তাহলে তা বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের প্রভাব হ্রাসে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে; বাড়বে রুবল, ইউয়ান বা অন্য মুদ্রায় লেনদেনের চল।

- রয়টার্স

ইত্তেফাক/জেডএইচডি