মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা মরিয়ম নেছা ববি শৈশব থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন জীবনটা সহজ নয়, এখানে টিকে থাকতে গেলে নিজেকেই কিছু করতে হবে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য।
পঞ্চম শ্রেণিতে থাকাকালীন, ববি টিউশনি করে পেয়েছিলেন ১০০ টাকা সম্মানী। তিনি ছোটবেলা থেকেই ভাবতেন বড় হয়ে পরিবারের জন্য কিছু করবেন। সেই তাগিদেই তিনি বিজিবির ‘পরিবার কল্যাণ’ এ সেলাইয়ের কাজ শেখেন। তিনি প্রথম আয় করেন বান্ধবীর জামা বানিয়ে। ২০০৮ সালে ববি নিজের একটি টেইলার্স দিয়ে দিন রাত কাজের পিছনে ছুটতে থাকেন। এর ঠিক ছয় বছর পর তিনি ইনকাম বাড়ানোর জন্য ছোট্ট পরিসরে বুটিক আর বিউটি পার্লারের কাজ শুরু করেন। ব্যবসা জমজমাট হলে তিনি বাকিতে মহিলা কাস্টমারদের প্রোডাক্ট দিতে লাগলেন, যার কারণে ব্যবসার প্রসার ক্রমাগতই বেড়েই চললো।
২০১৬ তে মাত্র ৯০ স্কয়ার ফিট জায়গায় চালু করেন ফুডকোর্ট। ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় পরিধি বাড়িয়ে ৯০ থেকে তিনি এবার ১৮০ স্কয়ার ফিটের দোকান নেন। কিন্তু ফুড কোর্ট সফলতার এক বছর হতে না হতেই রাস্তার কাজের জন্য তার ফুড কোর্ট ভেঙে দেয়া হয়। ফুড কোর্টের সাথে ববির স্বপ্নও যেন ভেঙে যাচ্ছিলো। কিন্তু আত্মবিশ্বাস থাকলে ও পরিশ্রম করলে যে ভাগ্য ও প্রসন্ন হয় তার প্রমাণ মেলে।
এক আত্মীয়ের সহায়তায় ২০১৭ সালে কম দামে ভালো খাবার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সর্বপ্রথম ঢাকার জিগাতলায় ববি মাত্র ৫০০ টাকায় প্রথম বাফেট রেস্টুরেন্ট ‘দ্য ক্যাফে রিও’ চালু করেন। এর সফলতার ধারাবাহিকতায় উত্তরায় আরও একটি বাফেট রেস্টুরেন্ট চালু করেন তিনি।
২০১৯ এ আরও একটি সহ ঢাকায় ক্যাফে রিওর মোট ৩টি ব্রাঞ্চ এবং ছোট পরিসরে বুটিকের কাজ- এ নিয়েই চলছিল ববির কাজের পিছনে অবিরাম ছুটে চলা। ২০২১ এ গুলশানে চালু হওয়া ‘দ্য ক্যাফে রিও লাউঞ্জ’ এখন পর্যন্ত সব থেকে বড় ব্রাঞ্চ।
পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতা ববিকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হবার সাহস জুগিয়েছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি দেশের জন্য কাজ করতে চান। ভবিষ্যতে ‘দ্যা ক্যাফে রিও’ এর আরও ব্রাঞ্চ বাড়ানো এবং কমপক্ষে আরও ১০০০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার ইচ্ছের কথা জানান তিনি।
রেস্টুরেন্টের বিজনেসের পাশাপাশি ‘রিও ট্রিপ’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি চালু করেছেন তিনি। ঘুরে বেড়ানোর নেশা থেকেই ট্রাভেল এজেন্সির চিন্তা মাথায় আসে তার। এছাড়াও তার বুটিকের কাজ ‘রিওশপ’ নামে অনলাইনে চলছে বেশ ভালোভাবেই।
