আহসান জোবায়ের, জবি সংবাদদাতা
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে লোকজন বাড়ি ফেরা শুরু করলেও গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার সেই চাপ ছিল বেশি। শুক্রবার সকাল থেকেই মানুষ সদরঘাটে আসতে শুরু করে। টার্মিনালে আসতে সদরঘাটমুখী বাসেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বাড়তি যানবাহনের চাপ দেখা যায়। তাছাড়া ইসলামপুর ও মৌলভী বাজারসহ আশপাশের ব্যবসা কেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্ট যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরান ঢাকা। গত দুই দিনই পুরানা পল্টন থেকে সদরঘাটগামী বাসে ছিল তীব্র যানজট। তিন কিলোমিটার রাস্তা পার হতে লেগেছে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা। যানজট নিরসনে বাহাদুর শাহ পার্কের চারপাশে বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তীব্র যানজটে রায় সাহেব বাজার এলাকা থেকে হেঁটে সদরঘাটে যেতে হয় লঞ্চযাত্রীদের। রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
গাজীপুর থেকে আসা বরিশালগামী এক নারী যাত্রী অভিযোগ করেন, তাকে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় এসে বিপদে পড়তে হয়েছে। যানজটের মধ্যে বাচ্চা সঙ্গে নিয়ে চলাচল কঠিন। সঙ্গে ব্যাগ রয়েছে। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে। তাও রিকশায় চলতে কষ্ট হচ্ছে। মিরপুর থেকে আসা আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, দুপুর ১২টায় রওনা দিয়ে ৫ ঘণ্টা পর তাঁতিবাজার এসে পৌঁছাই। ভয় পেয়েছিলাম লঞ্চ মিস করি কিনা। যানজটে আর গরমে অতিষ্ঠ হয়ে এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করি। এতদূর পথ হাঁটতেও এখন সমস্যা। মানুষের চাপে ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
গতকাল শনিবারও পুরান ঢাকাজুড়ে ছিল যানজট। অলি-গলিতে দিনভর যানজট লেগেই ছিল। যানজটের কারণে সদরঘাটগামী মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েন। যানজটের কারণে দোকানের সামনে গাড়ির জট লেগেই ছিল। ফলে অনেকে কষ্ট করেও দোকানে ঢুকতে পারেননি। ঈদের আগ মুহূর্তে এসে এই ধরনের যানজটের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমনিতেই পুরান ঢাকার রাস্তা-ঘাট সরু। একটা গাড়ি অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গেলেই যানজট লেগে যায়। এর মধ্যে সদরঘাটগামী মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা ট্রাফিক বিভাগের। রিকশা চালকদের অভিযোগ, এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। অন্য সময় যে রোজগার করতে সময় লাগে এক ঘণ্টা এখন তার জন্য ব্যয় হচ্ছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
