তানোরে প্রথমবারের মতো বারি সরিষা চাষ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ১৮:৪০

উচ্চ ফলনশীল এবং স্বাস্থ্যকর তেলের উৎস হিসেবে ক্যানোলা কোয়ালিটি ‘বারি ১৮’ জাতের সরিষার প্রথম চাষ করা হয়েছে তানোর উপজেলায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত এ সরিষা চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষকরা। কৃষক বিঘাপ্রতি ‘বারি ১৮’ চাষ করে সাড়ে আট থেকে ৯ মণ ফলন পেয়েছেন। বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ‘বারি ১৮’ সরিষা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকরা খুশি। 

কৃষক জানান, বিঘাপ্রতি ‘বারি ১৮’ সরিষা চাষে খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আর বিঘাপ্রতি সাড়ে আট থেকে ৯ মণ সরিষা বিক্রি করে ৩০ হাজার থেকে ৩৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। বারি ১৮ জাতের সরিষা শুধু ফলনই বেশি নয়, স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর বাজারে চাহিদাও বেশি। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসের ২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের টার্গেট থাকলেও চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। উপজেলা বাধাইড়, কামারগাঁ ও চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক ভাবে ২.৫ হেক্টর জমিতে বারি-১৮ সরিষার চাষ করা হয়েছিল। 

উপজেলা পারিশো গ্রামের কৃষক জগদিস দাস বলেন, ‘এবার নতুন জাতের বারি-১৮ জাতের সরিষা চাষ করেছি। ফলন ভালো পেয়েছি। এর তেল স্বাস্থ্যকর হওয়ায় ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। আশা করছি সামনের বার এ জাতের সরিষা আরো বেশি জমিতে চাষ করব। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, বারি-১৮ বিঘাপ্রতি ফলন সাড়ে আট মণ। তাই প্রচলিত সরিষার চেয়ে তেলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় অন্তত দুই শতাংশ। প্রচলিত সরিষার ইউরেসিক এসিডের হার আড়াই শতাংশের ওপরে থাকায় অনেকে ভোজ্য তেল হিসেবে সরিষাকে পরিহার করেন। কিন্তু বারি-১৮ জাতের সরিষার তেলে ইউরেসিক এসিডের হার পয়েন্ট পাঁচ শতাংশের নিচে। এ কারণে এ তেল স্বাস্থ্যসম্মত। ফ্যাটি এসিডের হার কম থাকায় হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের জন্যে মোটেই ক্ষতিকর নয়। 

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ডি এফ এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, সরিষা চাষে কৃষকরা এবার বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফলে গত বারের চেয়ে ১ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে এবার বেশি সরিষা চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরা সরিষার জমিতে মৌচাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সামিমুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছর ‘বারি-১৪’, ‘বারি-১৫’, ‘বারি-১৭’ ও ‘বিনা-৪ জাতের সরিষা বেশি চাষ হতো। এ বছর চাষিরা যাতে অধিক লাভবান হতে পারেন সেজন্য তাদেরকে ক্যানোলা কোয়ালিটি ‘বারি-১৮’ জাতের সরিষার বীজ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই সরিষা চাষে বিঘাপ্রতি সাড়ে আট মণ থেকে ৯ মণ ফলন হয়েছে। আর বারি-১৮ সরিষার তেল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর চাহিদা এবং দামও ভালো। আশা করছি সামনে এই জাতের সরিষা চাষে কৃষক আরো আগ্রহী হবেন। 

ইত্তেফাক/এআই